Image description

বিএনপির উদ্যোগে টকশোতে অংশ নেওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দলটির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বক্তাদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, ইউজিসির সদস্য ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

 

বিএনপির উদ্যোগে টকশোতে অংশ নেওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দলটির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বক্তাদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, ইউজিসির সদস্য ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিএনপির মিডিয়া সেলের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভাটিকে দলটির পক্ষ থেকে ‘টকশোতে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সভায় কতজন অংশ নিয়েছেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে সভার বিভিন্ন মুহূর্ত দেখা যায়। এতে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের পাশাপাশি কয়েকজন উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইউজিসির সদস্য এবং সাংবাদিককে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে এমন কয়েকজনও রয়েছেন, যারা বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে রাজনৈতিক ও জাতীয় ইস্যুতে নিজেদের মতামত দিয়েছেন এবং জনপরিসরে দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকা বা নিরপেক্ষ হিসেবে নিজেদের দাবি করেন।

তবে সভায় দলীয় নেতাদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার উপস্থিতিই বেশি নজর কেড়েছে। তাদের মধ্যে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মতিনূর রহমান, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবু হাসনাত শামীম এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হাসনাত আলী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য

 

সাংবাদিকদের মধ্যে টকশো উপস্থাপক সাঈদ খান, ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ এবং টাইমস অব বাংলাদেশের উপদেষ্টা সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান উপস্থিত ছিলেন। বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ছিলেন রেজাউল করিম রনি।

 

 

সাংবাদিক ও সঞ্চালকগণ

 

এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানও সভাস্থলে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন বিএনপিপন্থী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মারুফ মল্লিক। গত ১১ সেপ্টেম্বরের এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, উপাচার্য সভাস্থলে গেলেও ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।

 

 

মারুফ মল্লিকের ফেসবুক পোস্ট

 

সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টকশো বক্তাদের দল-সরকোরের জন্য ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরী করতে বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি একা পারব না, আপনারা যদি সহযোগিতা না করেন। আপনারাই বলছেন, আমার বিষয়ে মানুষের ধারণা ইতিবাচক। আমি একা ইতিবাচক হলে তো হবে না। আমি একা তো পারব না, সমন্বিত প্রচেষ্টা লাগবে। সরকারের চেষ্টাকে তুলে ধরতে হবে যৌক্তিকভাবে।’

সভায় মন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ছাত্রদলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্ত্রী ও মন্ত্রী পদমর্যাদার ব্যক্তি এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন- বিএনপি মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, খাদ্যমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং ডেপুটি প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে-হাবীবুন নবী খান সোহেল, আজিজুল বারী হেলাল, হাবিবুর রহমান হাবিব, সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্স, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মোশারফ হোসেন ঠাকুর, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন সেলিম, এহসানুল হুদা, কামরুজ্জামান রতন, মাহমুদা হাবীবা, মীর হেলাল, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, শায়রুল কবির খান, বীথিকা বিনতে হোসাইন, শহিদুল আলম বাবুল, রফিক শিকদার, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, শিরীন আক্তার ও মানসুরা আলম উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সহসভাপতি মনজুরুল ইসলাম রিয়াদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাওন, ডাকসুতে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান এবং জিএস প্রার্থী তানভীর বারী হামীমও সভায় অংশ নেন।

তবে সভায় অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের অনেকেই কোন পরিচয়ে বা কী প্রেক্ষাপটে বিএনপির এই মতবিনিময় সভায় আমন্ত্রিত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিএনপিপন্থী টকশো বক্তাদের সঙ্গে একই বৈঠকে রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতি তাঁদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং পেশাগত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আবু হাসনাত মোহা. শামীমকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের টকশো সঞ্চালক সাঈদ খান এটিকে একটি ‘নির্দলীয়’ অনুষ্ঠান বলে দাবি করেন। বেঙ্গল লেন্সকে তিনি বলেন, ‘এটা এমন একটা অনুষ্ঠান ছিল যেখানে কোনো কিছু ইম্পোজ করা (আরোপিত) ছিল না। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন। সেদিন আমাদের সাথেও মতবিনিময় করেছেন। উনি তেমন কিছুই বলেননি। বরং দেশের ঐক্য, মূল্যবোধের প্রতি খেয়াল রাখতে বলেছেন।’

টকশো বক্তাদের সাথে মতবিনিময়ে বিএনপি সমর্থক টকশো বক্তাদের বাইরে অন্যরা নাই কেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডেমোক্রেসি মানে তো সবার মত না। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানে তো বাংলাদেশর ১৮ কোটি মানুষের মত না। এক্ষেত্রে আয়োজকদের একটা স্বাধীনতা আছে। তারা তাদের মত করে আয়োজন করেছেন।’

দল-নিরপেক্ষ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ উপস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলেও একই উত্তর দেন তিনি।

এ ব্যাপারে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্তব্য জানতে ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান রুমনকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও পাওয়া যায় নি।