Image description

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থেকে সরবরাহ না আসায় স্পট মার্কেট থেকে চড়া দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনছে সরকার। সংকট শুরুর আগের তুলনায় এলএনজি কিনতে প্রায় তিন গুণ বেশি ব্যয় হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি মিলিয়ন মেট্রিক ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম ছিল ১০ থেকে ১২ ডলার। সংঘাতের ফলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী দেশ কাতার থেকে এলএনজি না আসায় স্পট মার্কেটে নির্ভরশীল হতে হয়েছে। বর্তমানে স্পট মার্কেট থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি প্রায় ৩০ ডলার দরে কিনতে হচ্ছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্পট মার্কেট ও সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) মিলিয়ে মোট ছয় কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরভিত্তিক ভিটল এশিয়া পিটিই লিমিটেড থেকে আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর সরবরাহের জন্য এক কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতি এমএমবিটিইউর দর পড়বে ২৯ দশমিক ৭৯৫ ডলার। এছাড়া ৯ ও ১০ অক্টোবর সরবরাহের জন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে, যার দর পড়বে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ দশমিক ৯৫ ডলার।

একটি সাধারণ কার্গোতে প্রায় ৩ দশমিক ৩৬ মিলিয়ন এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকে। প্রতি ডলারের বিনিময় হার প্রায় ১২৩ টাকা ধরে টোটাল এনার্জিসের কার্গোটির পেছনে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা এবং ভিটল এশিয়ার কার্গোটিতে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, সংঘাতজনিত এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলএনজি খাতে সরকারের ভর্তুকির বোঝা ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বেড়েছে।

এর আগে, গত ৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, শুধুমাত্র স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সংগ্রহের জন্য সরকারকে কিছুদিনের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে।

১৪ সেপ্টেম্বরের সভায় ডিপিএম পদ্ধতিতে তুলনামূলক কম দামে চারটি এলএনজি কার্গো আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ‘ড্যারাব ইনক’ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ১৭ ডলার দরে দুই কার্গো ও ‘মাইন্ড মিঙ্গেল এলএলসি’ থেকে ১৯ ডলার দরে দুই কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

তবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কম দাম দেখানো হলেও সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ, এর আগে ডিপিএম পদ্ধতিতে বেশ কয়েকটি কার্গো সময়মতো না আসায় সংকট বেড়েছিল।