জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী নির্বাচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) বর্তমান কমিটির এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ে পরিবহন সেবা সম্প্রসারণ, মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন, গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির বিলুপ্তি, রিডিংরুমে এসি ও কম্পিউটার সুবিধা, হলভিত্তিক জিমনেসিয়াম, দক্ষতা উন্নয়ন ও ক্যারিয়ার সহায়তাসহ বেশ কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়েছে এ কমিটি।
গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হয়ে ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এসএম ফরহাদের নেতৃত্বাধীন কমিটি ১৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেয়। ৩৬ দফা নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও বেশ কয়েকটি খাতে ডাকসুর কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সীমিত বাজেটের মধ্যেও স্পনসর ও বিভিন্ন সহযোগিতা সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ কাজ করার চেষ্টা করেছেন তারা। ইশতেহারের বাইরেও অসংখ্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবহনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
ডাকসুর দৃশ্যমান অর্জনের তালিকায় পরিবহন সেবা অন্যতম। এ খাতে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। নতুন কয়েকটি রুট চালুর পাশাপাশি কুমিল্লা পর্যন্ত বাসসেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সান্ধ্যকালীন ও শনিবারের বাস ট্রিপ চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি বাসের অবস্থান জানাতে ‘লালবাস’ অ্যাপ চালুর কাজও এগিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন যাতায়াতের চাপ কমাতে এসব উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির অবসান
জুলাই-পরবর্তী ডাকসুর সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগগুলোর একটি হলো আবাসিক হলের গণরুম ও গেস্টরুম নির্যাতনের সংস্কৃতি বিলুপ্ত করা। ভিপি সাদিক কায়েমের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি গণরুম ও গেস্টরুম স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত করা হয়েছে।
আগের গণরুমগুলোর কিছু অংশকে রিডিংরুমে রূপান্তর করা হয়েছে। এসব রিডিংরুমে এসি ও কম্পিউটার সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন হলে জিমনেসিয়াম স্থাপন এবং হলভিত্তিক শিক্ষার্থীবান্ধব অবকাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অবকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ
কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের উন্নয়নে প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। একই পরিমাণ অর্থায়নে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সংস্কার কাজ চলছে। ঐতিহাসিক মুসা খাঁ মসজিদ সংস্কারে ব্যয় হচ্ছে প্রায় দুই কোটি ৮০ লাখ টাকা।
বিভিন্ন আবাসিক হলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনেও প্রায় ছয় কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। রিডিংরুম ও শিক্ষার্থীদের অন্যান্য সুবিধা উন্নয়নেও অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।
নারী শিক্ষার্থীদের জন্যও কিছু আলাদা উদ্যোগ নিয়েছে ডাকসু। তাদের জন্য শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্রে জিমনেসিয়াম উন্নয়নে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। কলাভবনে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, মেয়েদের কমনরুমে এসি স্থাপন এবং ছাত্রী হলগুলোতে ১০ হাজারের বেশি স্যানিটারি ন্যাপকিন বিনামূল্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় এক হাজার নারী শিক্ষার্থীকে হিজাব দেওয়া এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
আধুনিক হচ্ছে মেডিকেল সেন্টার
স্বাস্থ্য খাতেও এক বছরে বেশকিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় তিন কোটি টাকার কাজ হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু।
তুরস্কের কো-অপারেশন অ্যান্ড কো-অর্ডিনেশন এজেন্সি (TIKA)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় মেডিকেল সেন্টারে অ্যাম্বুলেন্স, এয়ার কন্ডিশনার, এক্স-রে, ইসিজি মেশিন, অ্যানালাইজার ও মাইক্রোস্কোপসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম যুক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া ফার্স্ট এইড বুটক্যাম্পে প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয় এবং বিভিন্ন মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি করেছে ডাকসু। হলভিত্তিক ছারপোকা নিধন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধেও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে উদ্যোগ
শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বিভিন্ন বিনামূল্যের কোর্সে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডাকসু। আবাসিক হলগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনেও প্রায় ৫০ লাখ টাকার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে চারটি হলে ল্যাব স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে এবং আরো আটটি হলে কাজ চলমান।
চীনের ৩১টির বেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে আয়োজিত জব ফেয়ারে প্রায় ৪৩০ শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সাতটি আন্তর্জাতিক জার্নালে বিনামূল্যে অ্যাক্সেসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিল ডাকসু। সাংস্কৃতিক সম্পাদকের সম্পাদনায় ২৭টি বই প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন সেমিনার, সামিট ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে ডাকসুর তথ্য। পাশাপাশি ২৭০ জন শিক্ষার্থীকে নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ডাকসু।
অর্থায়নে বড় অংশ স্পন্সর থেকে
ডাকসু নেতারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অসহযোগিতা, সীমিত অর্থায়ন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিভিন্ন ব্যক্তি, অ্যালামনাই, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পনসরের সহায়তায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে দুই দফায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ৩৫ লাখ টাকা পেয়েছে ডাকসু। এর বাইরে বিভিন্ন ব্যক্তি, অ্যালামনাই, দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও করপোরেট স্পনসরের সহযোগিতায় বাকি কাজ ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, সীমিত বাজেটের মধ্যেও স্পনসর ও বিভিন্ন সহযোগিতা সংগ্রহ করে আমরা সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেছি। বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক মূল্য হিসাব করলে ডাকসুর এক বছরের কাজের পরিমাণ ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, আমরা ইশতেহারের বাইরেও অসংখ্য কাজ করেছি। স্বপ্নের ক্যাম্পাস বিনির্মাণে ডাকসুর প্রত্যেকে দিন-রাত কাজ করেছে। এবারের ডাকসু যে পরিমাণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণমূলক কাজ করে দেখিয়েছে তা ইতিহাসের কোনো ডাকসু পারেনি। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, শিক্ষার্থীরা এই ক্যাম্পাসে শিরদাঁড়া সোজা রেখে মাথা উঁচু করে চলবে। শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ক্যাম্পাসে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না।
ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ডাকসু দুই দফায় ৩৫ লাখ টাকা পেয়েছে। এর বাইরে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও অ্যালামনাইয়ের সহযোগিতায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার কাজ ও উদ্যোগ বাস্তবায়নের দাবি করেছে সংগঠনটি।
কিছু ক্ষেত্রে এখনো চ্যালেঞ্জ
তবে এক বছরে এসব দৃশ্যমান উদ্যোগের পাশাপাশি কিছু মৌলিক সংকট এখনো রয়ে গেছে। নির্বাচনের আগে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্রথম বর্ষ থেকেই আবাসন নিশ্চিত, নিরাপদ ক্যাম্পাস, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও প্রশাসনিক সেবা সহজীকরণের মতো ছয়টি মৌলিক বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এক বছর পর এসব প্রতিশ্রুতির কয়েকটিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর।
যে জায়গাগুলোতে ডাকসু পিছিয়ে তার অন্যতম আবাসন খাত। বিশেষ করে নারী হলগুলোতে সিট সংকট এখনো তীব্র। অনেক শিক্ষার্থীকে আবাসিক সুবিধার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের কথা বলা হলেও নতুন আবাসিক অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা বিদ্যমান সংকট দূরীকরণে এখনো পূর্ণাঙ্গ অগ্রগতি দেখা যায়নি। এদিকে ২,৮৪১ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প এগুচ্ছে কচ্ছপগতিতে। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জবাবদিহিতায় নিয়ে আসার কোনো উদ্যোগ দেখাতে পারেনি ডাকসু।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে চুরি-ছিনতাই, মাদকাসক্ত ও ভবঘুরেদের উপস্থিতি এবং নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির মতো ঘটনা বেড়ে চলেছে।
এদিকে খাবারের মান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। হলের ক্যান্টিনগুলোতে মাঝে মাঝে ডাকসু নেতারা তদারকি করলেও বিভিন্ন সময়ে খাবারে পাথর, কেঁচো, ব্লেড, টিকটিকি, তেলাপোকা ও বড়শি পাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এছাড়া প্রশাসনিক সেবা ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আসেনি। রেজিস্ট্রার ভবনকেন্দ্রিক হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং’ এবং ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ই-লাইব্রেরি চালু না হওয়া এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ না নেওয়াও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির তালিকায় রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মন্তব্য
ডাকসুর ব্যাপারে বেগম রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো দলের সদস্য নই। তবে ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের কাজকর্ম আমার খুব ভালো লেগেছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ডাকসু খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। বাইরে এসব সেবা নিতে গেলে অনেক টাকা খরচ হতো, যা অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন বাধার মধ্যেও ডাকসু যে কাজগুলো করার চেষ্টা করছে, তা প্রশংসার যোগ্য।
তিনি আরো বলেন, ডাকসুর এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে যারা দায়িত্বে আসবেন, তাদেরও বর্তমানের চেয়ে আরো ভালো কিছু করার চেষ্টা করতে হবে।
কবি সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, ডাকসু ও হল সংসদগুলো কার্যকর হওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভিন্ন পর্যায়ে জবাবদিহির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। হল প্রশাসন থেকে শুরু করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এখন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগের বিষয়ে জবাব দিতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া ও সমস্যাগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে ডাকসু।
এদিকে ঢাবি ছাত্রদল নেতা ও ডাকসুর জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম ডাকসুর উন্নয়ন কাজের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে ৩৫ কোটি টাকা কীভাবে ব্যয় করা হলো, তার স্বচ্ছ হিসাব শিক্ষার্থীদের দেওয়া উচিত। তার দাবি, ডাকসুর মেয়াদে আবাসন ও খাবারের সংকটের তেমন পরিবর্তন হয়নি। প্রথম বর্ষের অনেক শিক্ষার্থী এখনো হলে উঠতে পারেননি। ক্যান্টিনের মালিকানা পরিবর্তন হলেও খাবারের মান বাড়েনি এবং স্থাপিত পানি ফিল্টারগুলোর অধিকাংশই অকেজো হয়ে আছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সার্বিক বিষয়ে ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসুর সীমাবদ্ধতা ছিল, কিন্তু আমরা থেমে থাকিনি, চেষ্টা করেছি। আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীনের সহযোগিতায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ ছাত্রী ধারণক্ষমতার নতুন একটি হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, অনেক কাজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করেনি। লাখ লাখ টাকা খরচ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা জিমনেসিয়াম বানিয়েছি, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটা চালু করছে না। মসজিদ-রিডিং রুমের জন্য আমরা এসি নিয়ে এলে প্রশাসন সেগুলো স্থাপন করে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রস্তাব দেওয়া হলে তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান আমার দেশকে বলেন, নিরাপত্তা, খাবার ও আবাসন সংকট সমাধানে ডাকসু বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়েছিল। বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ ও ছিন্নমূলদের ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা যায়নি। টিসিবির সঙ্গে কম দামে মানসম্পন্ন খাবারের উদ্যোগও রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর বাতিল হয়ে যায়। এরকম অনেক ক্ষেত্রেই আমরা এগুতে পারিনি।