Image description

রিপিট ক্যাডার বন্ধ, শিক্ষা ক্যাডারের শূন্য পদ যুক্ত ও নন-ক্যাডার পদসংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ৫০তম বিসিএস প্রার্থীরা। তারা জানান, পূর্ববর্তী বিসিএসগুলোতে বহুসংখ্যক পদ শূন্য থাকায় জনবল সংকট তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি যোগ্য প্রার্থী চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। 

সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ৫০তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে সরকারি কলেজের জন্য বর্তমানে ১৩৯টি শূন্য পদ রয়েছে। কিন্তু ৪৭তম বিসিএসে সরকারি কলেজে শিক্ষা ক্যাডারের মোট পদ ছিল ৯২৯টি। এর মধ্যে ৭১৩টি পদে কাউকে সুপারিশ করা হয়নি, যা মোট পদের প্রায় ৭৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। 

বিভিন্ন বিষয়ের এসব শূন্যপদের মধ্যে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, অর্থনীতি, প্রাণিবিদ্যা, ইতিহাস, সমাজকল্যাণ, রসায়ন, ইসলামী শিক্ষা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, পদার্থবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, সমাজবিজ্ঞান, গণিত, হিসাববিজ্ঞান, মার্কেটিং, ব্যবস্থাপনা, মনোবিজ্ঞান, কৃষিবিজ্ঞান, সংস্কৃত, গার্হস্থ্য অর্থনীতি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ফাঁকা পদ রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে নন-ক্যাডার পদ রয়েছে মাত্র ৩৯৫টি। বিপরীতে এবারের বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ হাজার ১৬৫ জন প্রার্থী। এর আগে ৪৪তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদে মোট ৪ হাজার ১৫৬ জনকে সুপারিশ করা হয়েছিল। 

নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা, ২০২৩-এর উপবিধি ৬(১)(ক) অনুযায়ী সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন নন-ক্যাডার পদের সংখ্যা বাড়ানোর সুুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

চাকরি প্রত্যাশীদের দাবি, শিক্ষা ক্যাডারের শূন্য পদগুলো ৫০তম বিসিএসে যুক্ত করা না হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক জনবল সংকট আরও দীর্ঘায়িত হবে। আর নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা অনুযায়ী সরকার চাইলেই পদ বাড়াতে পারে, না হলে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে থাকা শূন্য পদগুলো ফাঁকা থেকে যাবে, অন্যদিকে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হবেন। 

এ ছাড়াও রিপিট ক্যাডার বন্ধের দাবি জানিয়ে ৫০তম বিসিএস প্রার্থীরা বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে পূর্ববর্তী বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পরবর্তী বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়া ও সৃষ্ট শূন্য পদের বিষয়টি বিবেচনা করা হলে আরও বেশি সংখ্যক যোগ্য প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতো।

তাদের অভিযোগ, ৪৪তম বিসিএস ছাড়া অন্য কোনো বিসিএসে সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। অথচ পরবর্তী বিসিএসের ফল প্রকাশের আগে পূর্ববর্তী বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত কিছু প্রার্থী নতুন বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। ৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষাতেও এমন অনেক প্রার্থী অংশ নিয়েছেন, যারা এরই মধ্যে পূর্ববর্তী বিসিএসে প্রশাসন এমনকি পররাষ্ট্র ক্যাডারেও সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।

৫০তম বিসিএস প্রার্থীদের দাবি, পূর্ববর্তী বিসিএসে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পরবর্তী বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের আগে যথাযথভাবে সমন্বয় করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূরক ফল প্রকাশের ব্যবস্থা করা গেলে একই প্রার্থীর একাধিক বিসিএসে সুপারিশ পাওয়ার কারণে সৃষ্ট পদ শূন্যতা কমানো এবং অপেক্ষমাণ যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের সুযোগ বাড়ানো সম্ভব। 

৫০তম বিসিএসে পূর্ববর্তী বিসিএসগুলোর শূন্য পদ যুক্ত করা, নন-ক্যাডার পদসংখ্যা বৃদ্ধি এবং রিপিট ও লোয়ার ক্যাডার সুপারিশ না করার বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে বিবেচনায় নিতে হবে।

উল্লেখ্য, ৫০তম বিসিএসে মোট শূন্য ক্যাডার পদের সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫। আর নন-ক্যাডার পদের সংখ্যা ৩৯৫। এই বিসিএস থেকে ক্যাডার ও নন ক্যাডার মিলে মোট ২ হাজার ১৫০ জনকে নিয়োগ দেবে সরকার।