সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবম ও দশম শ্রেণির ১৩ জন ছাত্রীর বাল্যবিবাহের তথ্য পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তদন্তে জানা গেছে, এদের মধ্যে ১১ জনের বাল্যবিবাহ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং তদন্ত চলাকালে আরও দুই ছাত্রীর বাল্যবিবাহের তথ্য মেলে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের ইউএনও কার্যালয়ে তলব করা হয়। সেখানে অভিভাবকরা বাল্যবিবাহের কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের পুনরায় স্কুলে পাঠানো এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বাবার বাড়িতে রাখার বিষয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হওয়া শিক্ষার্থীরা হলো— নবম শ্রেণির সাদিকা সুলতানা, আশামনি, ঊর্মি, ইতি খাতুন ও সাদিয়া খাতুন এবং দশম শ্রেণির লাবিবা জামান তমা, স্মৃতি সুলতানা, নাসরিন খাতুন, ইতিমনি, মনিরা ইয়াসমিন ও জান্নাতুল ফেরদৌস। তদন্ত চলাকালে পরে আরও দুই ছাত্রীর বাল্যবিবাহের তথ্য পাওয়া যায়।
জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাকিব হোসেন বাবলা জানান, গত ৩১ আগস্ট তিনি তালার একটি বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে যান। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে ১১ জনের বাল্যবিবাহের বিষয়টি জানতে পারেন। পরবর্তীতে শিক্ষকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসক ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিখিত অভিযোগ জানান তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন দ্রুত তদন্ত শুরু করে।
সাতক্ষীরা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার বলেন, জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির লিখিত অভিযোগের পর বিদ্যালয়টিতে তদন্ত পরিচালনা করা হয়। এরপর শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডেকে আনা হলে তারা বাল্যবিবাহের সত্যতা স্বীকার করেন। অভিভাবকরা জানান, সাতক্ষীরার বাহির থেকে কাজী/হুজুর এনে এসব বিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। তারা অভিযোগ স্বীকার করলে শিক্ষার্থীদের পুনরায় স্কুলে ফেরানো এবং প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বাবার বাড়িতে রাখার শর্তে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত তদারকির জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের ঘটনায় আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।