‘বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণের কাছে চাঁদের মতো হয়ে যাচ্ছে—দেখা যায়, শোনা যায়; কিন্তু যাওয়া যায় না’—এমন মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এই মন্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকেই সাধারণ মানুষকে সরাসরি যেতে হয় না।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে মনিরুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রশ্নোত্তর পর্বের উত্তরগুলো টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা ও প্রবেশাধিকার নিয়ে মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণের কাছে চাঁদের মতো হয়ে যাচ্ছে—দেখা যায়, শোনা যায় কিন্তু যাওয়া যায় না।’
এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পৃথিবীর কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকেই সাধারণ মানুষকে যেতে হয় না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রম মূলত দেশের আর্থিক ও মুদ্রানীতি পরিচালনা এবং ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে সাধারণ মানুষের যেতে হয় না। কোনও দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাধারণ মানুষকে যেতে হয় না। যদি যেতে হয়, তখন বুঝতে হবে দেশের অবস্থা ভালো নেই।’
এদিকে একই অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা।
ঋণের প্রয়োজনীয়তা কমাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি কর ও কর-বহির্ভূত রাজস্ব (এনটিআর) বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের নিজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় আরও সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ করা এবং অপ্রয়োজনীয় ও অগ্রাধিকারবহির্ভূত ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকারের অর্থায়নের চাহিদা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি ঋণের সুদ ব্যয় ও ঝুঁকি কমাতে বাজারভিত্তিক ও সুশৃঙ্খল ঋণ ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। এ জন্য অভ্যন্তরীণ ঋণবাজার উন্নয়ন এবং সরকারি সিকিউরিটিজের বাজারকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।