Image description

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে নোয়াপাড়া বাজারে গিয়েছিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সৈয়দ সাদাফ। এরপর আর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতভর উৎকণ্ঠায় ছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

আজ শুক্রবার সকালে হঠাৎ মায়ের মোবাইল নম্বরে ফোন করে সাদাফ জানায়, ‘আমি সিলেটে আছি, আমাকে নিয়ে যাও।’

পরে সিলেটের জাফলং সড়কের শাহপরান এলাকায় স্থানীয় লোকজন ও এক সিএনজি অটোরিকশাচালকের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন।

সৈয়দ সাদাফ উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার সৈয়দ সঈদ উদ্দিন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা সৈয়দ শাহীন আহমেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গুকর্ণ গ্রামের বাসিন্দা।

চাকরির কারণে তিনি পরিবার নিয়ে মাধবপুরের নোয়াপাড়া এলাকার সায়হাম কটন মিলসের ফ্যামিলি কোয়ার্টারে বসবাস করেন।

সাদাফের পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে তার মা তাকে বাসার অদূরে নোয়াপাড়া বাজারে কিছু সদাই আনতে পাঠান। বাজারে যাওয়ার পর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তাকে পাননি।

 

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে সাদাফের কাছ থেকে জানা যায়, বাজারের কাছ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটক করে একটি হাইএস গাড়িতে তুলে নেয়। এ সময় তার মাথায় আঘাত করা হয়। এরপর গাড়িতে করে তাকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের মধ্যে হিন্দি ভাষায় কথা বলছিলেন বলেও সাদাফ পরিবারকে জানিয়েছে।

 

রাতের শেষদিকে তাকে সিলেটের জাফলং সড়কের শাহপরান এলাকায় গাড়ি থেকে নামিয়ে ফেলে রেখে যায় বলে সাদাফের ভাষ্য। সেখানেই রাত কাটানোর পর শুক্রবার সকালে সে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা নেয় এবং মায়ের মোবাইল নম্বরে ফোন করে সিলেটে থাকার কথা জানায়।

সাদাফের মামা সৈয়দ ফয়েজ আহমেদ সায়হাম নিট কম্পোজিট মিলে কর্মরত। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার মা বাজার থেকে কিছু সদাইপাতি আনার জন্য তাকে বাসার কাছের নোয়াপাড়া বাজারে পাঠান। এর পর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। সকালে মায়ের নম্বরে ফোন করে সাদাফ জানায়, সে সিলেটে আছে এবং তাকে নিয়ে যেতে বলে।’

ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘সন্ধ্যার পর সাদাফের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, তা পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। সে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিল কি না এটি সন্দেহ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘যদি টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হতো, তাহলে সাধারণত অপহরণকারীরা পরিবারের কাছে মুক্তিপণ চাইত। কিন্তু এখন পর্যন্ত পরিবারের কাছে কোনো টাকা দাবি করা হয়নি।’

পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, সাদাফকে উদ্ধারের পর তার শারীরিক অবস্থার কারণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে পরিবারের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সাদাফের বাবা সৈয়দ শাহীন আহমেদ বলেন, ছেলের কাছ থেকে পাওয়া বর্ণনা অনুযায়ী কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।

মাধবপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই শিবানী রানী দাস আগামীর সময়কে বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ থানায় আসেনি।