Image description

স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে পুনরায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) নতুন মোড়কে পুনর্গঠন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বিল উত্থাপনের অনুমতি চাওয়ার প্রেক্ষিতে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিলটি উত্থাপনের অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন—‘র‍্যাব’ নামক প্রতিষ্ঠানটি বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গোপন বন্দিশালা তথা আয়নাঘর—আমাদের এখানে অনেক সংসদ সদস্য রয়েছেন, যাদের সে আয়নাঘরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে—ইত্যাদি কারণে এই প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিকভাবে, জাতীয়ভাবে বিতর্কিত হয়েছে, প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে বিএনপি বলুন, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি বা ১১ দল—আমাদের সবার কিন্তু একটা প্রতিশ্রুতি ছিল যে আমরা র‍্যাব বিলুপ্ত করব। এমনকি এই নির্বাচনের আগেও বর্তমান সরকার দল, বিএনপি, তারা কিন্তু প্রেস ব্রিফিং করে বলেছিল যে তারা র‍্যাব বিলুপ্ত করবে। ফ্যাসিবাদী সময়েও তারা বারবার বলেছে যে র‍্যাব তারা বিলুপ্ত করবে। তখন কিন্তু তারা বলেনি যে র‍্যাব বিলুপ্ত করে র‍্যাবের মতোই আরেকটি প্রতিষ্ঠান তারা নিয়ে আসবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এই র‍্যাবে আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময়ে সামরিক বাহিনীর ব্যক্তিবর্গদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সামরিক বাহিনী এবং পুলিশ—দুইটাকেই একটা রাজনৈতিকীকরণ, নিপীড়ক একটা হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছিল এবং জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংগঠন—বিভিন্ন জায়গা থেকে পরামর্শ এসেছিল এই র‍্যাবটাকে যাতে বিলুপ্ত করা হয়। ফলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে যে, এই যে র‍্যাব বিলুপ্ত করে তার জনবল দিয়েই আবার এসআরবি প্রতিষ্ঠা করা, এটা নতুন মোড়কে র‍্যাবটাকে নিয়ে আসা, র‍্যাবের একটা পুনর্গঠন করা হচ্ছে। ফলে পুলিশের এই ধরনের বিশেষ বিশেষায়িত ইউনিট কেন গঠন প্রয়োজন, সেটা কিন্তু সেই সময়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল।

স্পিকারকে সম্বোধন করে তিনি বলেন, আমরা মনে করি, যেহেতু এটা আমাদের ফ্যাসিবাদী সময়ের একটা দাগ, আমাদের একটা ক্ষতচিহ্ন, একটা আতঙ্ক, ফ্যাসিবাদের একটা চিহ্ন হচ্ছে এই র‍্যাব—বা এই প্রতিষ্ঠানটি। ফলে সেটা প্রথমে বিলুপ্ত করা হোক এবং পুলিশের বিশেষায়িত যদি কোনো ইউনিট প্রয়োজন হয়, সেটা এই সংসদে বিশদ আলোচনার প্রয়োজন আছে। সে আলোচনা করে তারপরে এ ধরনের বিল উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) আনতে পারেন। তার আগ পর্যন্ত, আপনার কাছে অনুরোধ থাকবে যে এ বিলটি যাতে উত্থাপন করার অনুমতি আপনি না দেন।