Image description

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়নে খুলনা মহানগর পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি ও পুলিশ সুপারকে এক মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রকাশ্যে বাবা ও ছেলেকে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা।

মুক্তিপণ হিসাবে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে অপহরণকারীরা। অপহরণের একদিন পর গতকাল মঙ্গলবার রাতে দুর্বৃত্তরা বাবাকে ছেড়ে দিলেও মুক্তিপণের জন্য ছেলেকে জিম্মি রেখে দিয়েছে। ইতিমধ্যে ছেলে প্রীতম মন্ডলকে (২৭) বাঁচাতে পরিবারের পক্ষ থেকে ২৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

গত সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর হরিণটানা থানার ঘোলা গ্রামের শিমুল মন্ডলের বাড়ি থেকে বি কোম্পানির শীর্ষ নেতা নবাবের নির্দেশে দুটি মোটরসাইকেলে চারজন গিয়ে শিমুল ও তার ছেলে প্রীতমকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে, অভিযোগ পরিবারের।

 

ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসীরা জানায়, গত সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে নগরীর হরিণটানা থানার ঘোলা গ্রামের শিমুল ও তার পরিবারের সদস্যরা খাচ্ছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে চারজন যুবক তাদের বাড়িতে আসেন। তারা গৃহকর্তা শিমুলের ছেলে প্রীতমকে তাদের সঙ্গে যেতে বলেন। প্রীতম তাদের সঙ্গে যেতে রাজি হন না। তখন তারা ঘরে ঢুকে প্রীতমকে টেনে বাইরে নিয়ে আসেন। একপর্যায়ে তারা শিমুল ও তার ছেলে প্রীতমকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যান। এ সময় বাইরে আরো কয়েকজন সহযোগী পাহারায় ছিল। তাদের ভয়ে তাদের চিৎকারে কেউ এগিয়ে আসেনি।

 

বুধবার দুপুরে প্রীতমের বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে, বটিয়াঘাটা থানার একদল পুলিশ প্রীতমদের বাড়িতে অবস্থান করছে। তারা প্রীতমের ঘরের মধ্যে স্ত্রী স্বর্ণা মন্ডলের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন। সে সময় প্রীতমের বাবা বাড়িতে ছিলেন না। তিনি টাকা সংগ্রহের জন্য ডিপিএস ভাঙাতে খুলনায় গিয়েছেন বলে পরিবার থেকে জানানো হয়।

অপহৃত প্রীতমের স্ত্রী স্বর্ণা বলেন, তার স্বামী ও শ্বশুরকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা তাকে জানান- প্রতিবেশী রামপ্রসাদের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে গণ্ডগোল রয়েছে। সে জন্য বি কোম্পানির শীর্ষ নেতা ‘নবাব’ প্রীতমকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের পাঠিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রীতমের মুক্তির জন্য তারা ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা চেয়েছে। এই টাকার জন্য প্রীতমের মোবাইল ফোন দিয়ে তারা তাগাদা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে তাদের ২৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকার জন্য তারা প্রীতমকে নির্যাতন করে মোবাইল ফোনে তার কান্না শোনাচ্ছে।

হরিণটানা থানার হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, প্রীতমের সঙ্গে প্রতিবেশী রামপ্রসাদের সঙ্গে ৩৬ লাখ টাকা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই টাকাকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, গত সোমবার নগরীর শেরে বাংলা রোডের রাঁধুনি হোটেলের আশপাশ এলাকায় প্রীতমকে উদ্ধারের জন্য অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. রেজাউর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে জানতে ওসিকে ফোন দিন।

তবে পুলিশ বেশ কয়েক জায়গায় অভিযান চালিয়েছে। ওরা জায়গা পরিবর্তন করছে।

এ ব্যাপারে কেএমপির কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও ডিসি সাউথের সঙ্গে কথা বলতে হবে। আমি ফলোআপ কিছু জানি না।