Image description

সাভারের বনগাঁও সুফি সাধক কাজী জাবের আল জাহাঙ্গীরের বাড়ি ও মাজারে দুই দিনব্যাপী ওরস বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আগামীকাল বুধবার ও বৃহস্পতিবার ওরস হওয়ার কথা থাকলেও তা বন্ধের দাবিতে উপজেলা প্রশাসন ও থানায় স্মারকলিপি দিয়েছে স্থানীয় কয়েকটি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আয়োজকদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মাজার ও বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার মামলা প্রত্যাহারে চাপ সৃষ্টি করতে এবার ওরস বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) ১০ জনের স্বাক্ষর করা একটি স্মারকলিপি সাভার উপজেলা প্রশাসন ও থানায় দেওয়া হয়।

 
 
 

স্মারকলিপিতে কাজী জাবের আল জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে ইসলামের অপব্যাখ্যা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ এনে তার বাড়িতে ওরস বন্ধের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আগের হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়েছে।

 
 

এতে অভিযোগ করা হয়, জাবের আল জাহাঙ্গীর বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে মুসলমানদের ঈমান ও আকিদা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার করছেন। তার বক্তব্যে নামাজ, রোজা, জান্নাত-জাহান্নাম ও কেয়ামত নিয়ে আপত্তিকর ব্যাখ্যা দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারীরা।

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুফি সাধক কাজী জাবের আল জাহাঙ্গীর। তার দাবি, ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে তৌহিদি জনতার নাম দিয়ে তার বাড়ি ও মাজারে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে তার ভাই কাজী গোলাম রসুল বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০-৪০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

জাবের আল-জাহাঙ্গীরের ভাষ্য, মামলা করার পর থেকেই আসামিদের কয়েকজন মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। এ নিয়ে আপসের চেষ্টাও হয়েছিল। গত ১১ জুলাই স্থানীয় বিএনপি নেতা সাইদুল ইবনে হাসিব সোহেল ১৮-২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

তবে ক্ষতিপূরণ, একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট ইমামকে অপসারণের শর্তে সমঝোতা না হওয়ায় বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, হামলার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আদালতে নারাজি দেওয়ার পর আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে সেই মামলার তদন্তের বিষয়টি সামনে আসার পরই ওরস বন্ধে নতুন করে নানা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

এদিকে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন চাকুলিয়ার পীর মাওলানা তৈয়বুর রহমান খান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হক্কানী, হেফাজতে ইসলাম ঢাকা জেলা উত্তরের আমির মাওলানা আলী আকবর কাসেমী, মহাসচিব মাওলানা আলী আজম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আমিনুল ইসলাম কাসেমী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সাভার শাখার সভাপতি মাওলানা আলী আশরাফ তৈয়বসহ বিএনপি, যুবদল ও জামায়াতের নেতাকর্মী।

হেফাজতে ইসলাম ঢাকা জেলা উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আমিনুল ইসলাম কাসেমী বলেন, জাবের আল জাহাঙ্গীরের বিভিন্ন বক্তব্যে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য রয়েছে। এসব বক্তব্য সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারে। তাই প্রশাসনের কাছে বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

অন্যদিকে সাভার থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সাইদুল ইবনে হাসিব সোহেল বলেন, এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে তার উদ্দেশ্য কোনো পক্ষ নেওয়া নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। দুই পক্ষের অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়ে আইনগতভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। একবার আপসের চেষ্টা হলেও শর্ত নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় তা সফল হয়নি।

ওরসকে কেন্দ্র করে হুমকির অভিযোগে গত ২০ আগস্ট সাভার মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন জাবের আল-জাহাঙ্গীরের ভাই কাজী গোলাম রসুল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ওরস আয়োজনের বিষয়টিও থানাকে জানানো হয়েছে।

এর মধ্যে সোমবার উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে।

সাভার মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, উভয় পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে দীর্ঘ সময় আলোচনা করা হয়েছে। আয়োজকদের ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো পক্ষ যেন মব তৈরি না করে এবং সবাই যেন আইন মেনে চলে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আইন অমান্য করলে যার বিরুদ্ধেই হোক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এক পক্ষ ওরস বন্ধের দাবি জানিয়েছে, অন্য পক্ষ অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছে। দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলা হয়েছে। নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার সবার রয়েছে। ঘরের ভেতরে বা ইনডোরে ওরস আয়োজনে বাধা থাকার কথা নয়। তবে উচ্চস্বরে মাইক ব্যবহার, কোনো অসামাজিক কর্মকাণ্ড এবং বহিরাগতদের হয়রানি করা যাবে না। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়েছে।