গাজীপুরের টঙ্গীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার ২৭ দিন পর এক তরুণের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানের একটি ড্রেন থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত যুবকের নাম আকাশ সরদার (২১)। নিহত আকাশ ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ঈশানগোপালপুর ইউনিয়নের রহমত বেপারীপাড়া গ্রামের মো. করিম সরদারের ছেলে। প্রায় তিন মাস আগে তিনি কুয়েত থেকে দেশে ফেরেন।
পুলিশ জানায়, বিদেশে চাকরি শেষে দেশে ফিরে বেকার ছিলেন আকাশ। এ সময় পূর্বপরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে চাকরির বিষয়ে যোগাযোগ করেন তিনি। গত ২৭ জুলাই সকাল ১০টার দিকে মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিঠু নামে একজন চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাকে ফরিদপুরের বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যান।
ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুমন নামে এক ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপে আকাশের স্ত্রী জেরিনকে ফোন করে জানান, আকাশকে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর থেকে আকাশের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
পরিবারের সদস্যরা আকাশের সন্ধানে মাজহারুলসহ অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো তথ্য না পেয়ে ২ আগস্ট আকাশের বাবা করিম সরদার কোতোয়ালি থানায় অপহরণ মামলা করেন।
মামলায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের নাজিরপুর গ্রামের মাজহারুল ইসলাম ওরফে মিঠুকে (৩০) প্রধান আসামি করে মো. অপু মিয়া (২৫) ও মগবাজার এলাকার মো. সুমন মিয়ার (৩৫) নাম উল্লেখ করে মামলাটি কার হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. হাসান সিকদার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান আসামি মাজহারুল ইসলামের অবস্থান শনাক্ত করেন। পরে রিকুইজিশনের ভিত্তিতে র্যাব-১-এর উত্তরা ক্যাম্পের একটি দল গতকাল রবিবার গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মাজহারুল ইসলাম আকাশকে হত্যার পর ইজতেমা ময়দানের পূর্ব পাশের একটি ড্রেনে মরদেহ গুম করে রাখার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আজ সকালে ওই ড্রেন থেকে আকাশের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।