Image description

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত এক আসামির শরীরে যে শার্ট দেখা গেছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। একই ধরনের আরেকটি শার্ট মরদেহ উদ্ধারের দিন পুলিশের এক কর্মকর্তার গায়ে দেখা গিয়েছিল।

কালবেলার রংপুর ব্যুরো চিফও জানিয়েছেন, একই ধরনের একটি শার্ট মরদেহ উদ্ধারের দিন রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনে দেখা যায়। ওই কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেছেন, একই শার্ট আলাদা আলাদা লোক পরতেই পারে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন হিসেবে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের বাড়িও মাছুয়াপাড়ায়। হত্যাকাণ্ডের পর ভবনটিতে বসে তারা ইয়াবা সেবন করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুজনের মধ্যে একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশেই দখীগঞ্জ শ্মশান থেকে তাকে আটক করা হয়।

আসামির গায়ের শার্ট নিয়ে নানা প্রশ্ন

এই প্রতিবেদন লেখার সময় রংপুরভিত্তিক বিভিন্ন স্থানীয় ফেসবুক পেজের লাইভে এক ব্যক্তিকে এই শার্ট পরে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে দেখা যায়। তার মুখে মাস্ক ছিল। তিনিই মূলত ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য, ঘটনাস্থল এবং নিহতদের পরিবারের স্বজনদের বক্তব্য নিয়ে বেশকিছু বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ এক মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা কিনে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার পাশেই সীমান্ত নামের একজনের বাসায় বসে ইয়াবা সেবন করেন। পরে রাতের শেষ দিকে তারা দেবু নামের এক ব্যক্তির নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে ইয়াবা সেবনের সময় শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী খালি গায়ে ও গলায় গামছা নিয়ে ছাদে আসেন।

এ সময় পুলিশ কমিশনারকে প্রশ্ন করা হয়, অভিযুক্তরা ইয়াবা সেবনের জন্য দেবু নামের ওই ব্যক্তির নির্মাণাধীন তিনতলার পুরো ফাঁকা ‘স্পেস’ ও ছাদ ব্যবহার না করে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে কেন গেলেন?

এ সময় তিনি বলেন, ‘এত অল্প সময়ে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে মামলার যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, আমি আলহামদুলিল্লাহ বলব। আমি আপনাদের বলব পুলিশের ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করবেন এবং নেগেটিভ কাজের সমালোচনা করবেন। শেষে কথাটা বলব, আমার ওপর আস্থা রাখতে পারেন’—এই কথা বলে তিনি ব্রিফিং শেষ করেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকাল ৫টার দিকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা নিজেদের দায় স্বীকার করায় তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।’

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে রোববার কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

কালবেলা