Image description
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের অংশগ্রহণকে সরকার গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বদলে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার সঙ্গে দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তার দাবি, নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে ধারণা থাকা সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক অবস্থান স্পষ্ট করতেই তারা এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
 
শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
 
আযাদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সরকার উদার ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিতে না দেখে রাজনৈতিক সংকীর্ণতার সঙ্গে মূল্যায়ন করছে।’
 
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘একজন মন্ত্রিসভার সদস্য বলেছেন, ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় বিরোধীদলের সংবিধান সংস্কার পরিষদে নেয়া শপথ আর টেকে না। আমরা জানতে চাই, এই যুক্তি যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে নেয়া শপথ কীভাবে বৈধ থাকে? কারণ ২০২৬ সালে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় কোনো সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।’
 
গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। বিরোধী দলের প্রার্থী থাকায় প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
 
জামায়াত নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা আমরা আগেই জানতাম। তবুও আমরা অংশ নিয়েছি জনগণের সামনে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে এবং গণতন্ত্রের দাবি জোরালো করতে।’
 
তার মতে, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও টেকসই করার জন্য সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে স্পষ্ট হয়েছে।
 
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আযাদ বলেন, ‘আমরা সরকারকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অংশগ্রহণকে সংকীর্ণভাবে ব্যাখ্যা না করে এর অন্তর্নিহিত গণতান্ত্রিক বার্তা উপলব্ধি করার আহ্বান জানাই।’
আযাদের ভাষ্য, জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে কোনো সরকারের পক্ষেই দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়।