রাজবাড়ীর পাংশায় চুরির অপবাদে জজ আলী বিশ্বাস (৩৫) নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের দড়ি বাংলাট গ্রামের করিম মণ্ডলের মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবারের দাবি, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাঁকে ডেকে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। দুই মাস আগে জমি নিয়ে বিরোধে তাঁর চাচা জামিন বিশ্বাসকেও পিটিয়ে হত্যা করে তারা। ওই ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি মো. আকমল হোসেন টিক্কা সম্প্রতি জামিনের এসে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
নিহত জজ আলী বিশ্বাস উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মাজাইল গ্রামের মো. শুকুর বিশ্বাস ওরফে শুরাই বিশ্বাস ছেলে। তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পেশায় কৃষক জজ আলী তিন সন্তানের জনক।
এদিকে, অভিযুক্ত মো. আকমল হোসেন টিক্কা এর আগে জামিন বিশ্বাস হত্যা মামলায় গত জুলাইয়ের শেষের দিকে তিনি জামিনে জেল থেকে ছাড়া পান। তিনি উপজেলার কসবামাজাইল ইউনিয়নের বাংলাট গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন, তবে কোনো পদ ছিল না তার।
নিহতের বাবা শুকুর বিশ্বাস বলেন, `দুই মাস আগে টিক্কা ও হাকিমের নেতৃত্ব দিয়ে আমার ভাইকে পিছিয়ে হত্যা করেছে। আমরা মামলা করার পর থেকে টিক্কা বিভিন্নভাবে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে আসছিল। তারা জামিনে এসে এবার আমার ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। পুলিশ আগের মামলায় সঠিক ব্যবস্থা নিলে এই ঘটনা ঘটত না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পাশাপাশি কসবামাজাইল ও পাট্টা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে সামাজিক দ্বন্দ্ব চলছে। একে কেন্দ্রে করে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এর মধ্যে গত ২২ জুন জজ আলীর চাচা মাজাইল গ্রামের জামিন বিশ্বাসকে পিটিয়ে হত্যা করে দড়ি বাংলাট এলাকার লোকজন। ওই ঘটনায় আকমল হোসেন টিক্কাকে প্রধান আসামি হিসেবে একটি হত্যা মামলা করে নিহতের পরিবার।
জজ আলীর স্ত্রী শিলা খাতুন বলেন, গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে তার স্বামী বাড়ির পাশে নদীতে মাছ ধরতে যান। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৩ টার দিকে কসবামাজাইল ইউনিয়নের আরিফ তাঁকে ফোনে ডেকে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আমি বারবার নিষেধ করছি। তিনি আমার কথা না শুনিই চলে যান। সকালে জানতে পারি তাঁকে চোর অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলছে।’
পাট্টা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মো. মাহামুল হাসান অন্তর দাবি করেন, জজ আলী বিশ্বাস ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে টিক্কার সঙ্গে আমাদের ঝামেলা চলে আসছিল। গতকাল রাতে জজ আলীকে তুলে নিয়ে পানির মোটর চুরির অভিযোগে ইট-লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। শুধু বিএনপি করার অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে আকমল হোসেন টিক্কার বাড়ি গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। আজ দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিয়েও বন্ধ পাওয়া যায়।
পাংশা মডেল থানার ওসি শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, চোর সন্দেহে এক যুবককে পেটানো খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিরাপত্তা স্বার্থে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এজাহার দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।