Image description

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মাদকাসক্ত ও মাদক কারবারি ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে বাবা-মায়ের মামলা। অভিযুক্ত ছেলেকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

 

উপজেলার পৌর শহরের নন্দীবাড়ি সীসার মোড় এলাকার বাসিন্দা আবদুল মালেক ও সমলা খাতুনের ছেলে সুমনকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করে ওইদিন দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন পুলিশ।

বিষয়টি মঙ্গলবার রাতে নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন সুমন। প্রায় আট বছর আগে তিনি ওই পেশা ছেড়ে দেন। এরপর ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। প্রায় চার বছর ধরে তিনি ইয়াবা সেবনের পাশাপাশি মাদক বিক্রির সঙ্গেও জড়িত রয়েছে।

ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে মাদকসহ গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছিল কিন্তু জামিন পেয়ে ফের মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে সুমন। 

তার মাদক সেবন ও বিক্রির বিরুদ্ধে কথা বলায় সুমন তার স্ত্রী  নিলুফা খাতুনকে প্রায় মারধর করতো। এমনকি ওই মাদকসেবী ছেলের অত্যাচারে মা-বাবা ঘরছাড়া হয়ে ছোট ছেলে আলামিনের আটানীবাজার এলাকার বাড়িতে আশ্রয় নেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, মাদক সেবন ও বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় নিজের বাবা-মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয় সুমন। পরে একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে মা সমলা খাতুন ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

 

এ প্রসঙ্গে সুমনের স্ত্রী নিলুফা খাতুন স্বামীর অভিযোগ তুলে জানান, বন্ধুদের নিয়ে বাড়িতে বসে প্রায় মাদক সেবন করতো আমার স্বামী এবং মাদক বিক্রিও করতো। এসবে বাধা দিলে আমাকে প্রায় মারধর করা হতো। একইভাবে শ্বশুর-শাশুড়িকেও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে অশ্রুসিক্ত কন্ঠে মা সমলা খাতুন বলেন, ছেলে আগে এমন ছিল না। ইয়াবায় আসক্ত হওয়ার পর থেকেই তার আচরণ বদলে যায়। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমাদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে সুমন। অনেক কষ্টে এখন ছোট ছেলের আশ্রয়ে থাকতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছি।

গ্রেফতার প্রসঙ্গে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, সুমনের বিরুদ্ধে তার মা আদালতে মামলা করেছিলেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।