Image description

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র ও হাবিপ্রবি শাখার সাবেক আহ্বায়কসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে বোচাগঞ্জ খানায় মামলা করেন দিনাজপুর জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাঈল হোসেন। বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আসামিরা হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দিনাজপুর জেলা শাখার সাবেক মুখপাত্র ও হাবিপ্রবি শাখর আহ্বায়ক জুলাই যোদ্ধা ফয়সাল মোস্তাক (২৭), বোচাগঞ্জ উপজেলার মুখপাত্র এম এ তাফসির হাসান (৩০), রাফিয়া ইসলাস (২৮), আবুল কালাম আজাদ (২৫), আনজু (২৭), বেলাল হোসেন (২৪), আসিফ (২৩), আরিফুল ইসলাম (২৬), মো. রকি (২৭), কানন (২৮), মো. রাকিবসহ (২৫) অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ছয়জন।

 
 

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৭ আগস্ট দুপুরে রাফিয়া ইসলাম নামে এক নারী বাদীর বাসায় গিয়ে উচ্চস্বরে কথা বলা ও হৈচৈ করেন। পরে অন্য আসামিরা সেখানে উপস্থিত হয়ে বাদীর বিরুদ্ধে ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে বিষয়টি ‘সমাধানের’ জন্য ৭ লাখ টাকা দাবি করেন। ওই পরিমাণ টাকা দেওয়া সম্ভব না হলে অন্তত ৫ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

 
 

বাদীর স্বামী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

মামলার বাদী ইসমাঈল হোসেন বলেন, ‘এজাহারে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে, সেটিই তার বক্তব্য। এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।’

তবে মামলার অন্যতম আসামি এনসিপির বোচাগঞ্জ উপজেলা মুখপাত্র এম এ তাফসীর হাসান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই মামলাটি করা হয়েছে। এনসিপি থেকে তাকে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করার পর একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

অন্যদিকে মামলার আসামি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র ও হাবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক ফয়সাল মোস্তাক বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসমাঈলকে ঘিরে বিভিন্ন আলোচনা তিনি দেখেছেন। ৭ আগস্ট একজনের ফোনে ইসমাঈলের বাসায় এক নারী বিয়ের দাবিতে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন।’

তবে ওই ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, ‘তাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। টাকা দাবির অভিযোগের প্রমাণ দেওয়ারও দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে নিজের সম্মানহানির অভিযোগে বাদীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।’

এদিকে ফয়সাল মোস্তাকের বিরুদ্ধে করা মামলাকে ‘হয়রানিমূলক ও মিথ্যা’ দাবি করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, হাবিপ্রবি শাখা।

সংগঠনটির মুখপাত্র আহসান মোহাম্মদের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো সামাজিক কর্মী বা ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তৈরি করা হলে তা ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘ইসমাঈল হোসেনের এজাহারের ভিত্তিতে ফয়সাল মোস্তাক, এম এ তাফসীর হাসান, রাফিয়া ইসলামসহ ১১ জন এবং অজ্ঞাতনামা ৫ থেকে ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’