সরকারের লাস্ট মাইল সংযোগ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে আসছে মেগা প্রকল্প। এর আওতায় পল্লী এলাকার সড়ক অবকাঠামো চলাচলের উপযোগী রেখে দেশের অর্থনৈতিক গতিশীল রাখা হবে। এছাড়া গ্রাম সড়কে অবস্থিত ব্রিজ ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে সড়ক অবকাঠামো সম্পদ সংরক্ষণ, গ্রাম সড়কের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ, পুঞ্জীভূত পুনর্বাসন কার্যক্রম কমিয়ে গ্রাম অঞ্চলের সব ধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য নিরাপদ, সুষ্ঠু এবং যথাযথ পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এজন্য গ্রাম সড়ক পুনর্নির্মাণ ও শক্তিশালীকরণ নামের প্রকল্পটি হাতে নিচ্ছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯৬৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আগামী ১৯ আগস্ট (বুধবার) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি উপস্থাপনের প্রস্তুতি পরিকল্পনা কমিশনের। সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুমোদন পেলে চলতি বছর হতে শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতেই এমন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার এমনটিই জানালেন পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান।
তার ভাষ্য, সারা দেশে গ্রামীণ নেটওয়ার্ক পুনর্বাসনের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজ ও টেকসই্ করে প্রকল্প এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ হবে। এর মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও এলাকার দারিদ্র্য বিমোচনে প্রকল্পটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এসব বিবেচনায় এটি অনুমোদন যোগ্য হিসেবে একনেকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ বলছে, বাংলাদেশ বিশ্বের অধিক ঘনবসতিপূর্ণ ও দ্রুত অগ্রসরমান উন্নয়নশীল একটি দেশ। এ দেশের জনসংখ্যার শতকরা ৭০ ভাগ লোক গ্রামে বাস করে। দেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নের সঙ্গে পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন সরাসরি সম্পৃক্ত। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় সারা দেশে পল্লী এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণির মোট ৪ লাখ ১০ হাজার ৫৩০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে পাকা সড়কের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৮১ কিলোমিটার। এর মধ্যে আবার উপজেলা সড়ক ৩৪ হাজার ৫৬৭ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক চার হাজার ৩৮২ কিলোমিটার এবং গ্রাম সড়ক ৯৮ হাজার ২৩২ কিলোমিটার। এসব সড়কে সড়কের মধ্যে গ্রাম সড়কে সেতু ও কালভার্ট রয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৭১ মিটার।
এছাড়া মোট ৯৮ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাকা গ্রাম সড়কের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ হাজার ৪৩৪ কিলোমিটার। প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় যাচাই-বাছাই করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ৫ হাজার ২২০ কিলোমিটার গ্রাম সড়ক এবং গ্রাম সড়কে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ৭ হাজার মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ৩য় অধ্যায়ে বলা আছে— দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ‘লাস্ট মাইল’ সংযোগ নিশ্চিত করা এবং ২য় অধ্যায়ের বর্ণিত দেশের দারিদ্র্য নিরসন, কৃষি উন্নয়ন ও দেশব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টির সঙ্গে প্রকল্পটির কার্যক্রম সংগতিপূর্ণ। এছাড়া, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এর অভীষ্ট নং-১ এর মূল লক্ষ্য-সর্বত্র সব ধরনের দারিদ্র্যের অবসান, অভীষ্ট নম্বর-২ এর মূল লক্ষ্য টেকসই কৃষির প্রসার এবং অভীষ্ট নম্বর-৯ এর মূল লক্ষ্য টেকসই শিল্পায়ন, উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এবং সাশ্রয়ী, টেকসই ও অভিঘাত-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার সঙ্গে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় একনেকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এটি দেশের ৬৪টি জেলার ৪৯৫টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হবে।