Image description

গণভোটের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, ‘গণভোট পুরোপুরি মানাও যাবে, না মানাও যাবে। কিন্তু আমরা মানবো। সেই গণভোটটা আমরা পর্যায়ক্রমে সংসদে প্রতিফলিত করবো’।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে মনোনয়ন জমা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। 

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা একটা আলাদা বিষয়, এটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন না। এখন নিয়ম রক্ষার না বলে হয়তো বলতে পারেন, তাদের এই কটা ভোট আছে, জেনেশুনে তারা ফেল করবে। আমি তাদের স্বাগত জানাই যে তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান না করে অংশগ্রহণ করছে, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি তাদের কংগ্রাচুলেট করি। সুতরাং এটা কোনোমতেই নিয়ম রক্ষার নির্বাচন না। এটা সংবিধান এবং আরপিও সমন্বয়ে যেটা হওয়া উচিত সেটি হচ্ছে।’

এসময় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, জুলাই সনদের অক্ষর, দাড়ি, কমা, বিন্দু, সেমিকোলন আমরা সবই বাস্তবায়ন করবো, যা দক্ষিণ প্লাজায় সই হয়েছে। সেটা আমরা বাস্তবায়ন করবো। বাস্তবায়নের প্রশ্নে একটা সংস্কারের শব্দ, আরেকটা সংশোধনের শব্দ। ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান গৃহীত হয়েছে এবং ২০২৬ সালে তারা ১০৬ বার সংবিধান সংশোধন করেছে। তারা সংবিধান নতুন করে লেখেনি। কাজেই আমরাও সংবিধান নতুন করে লিখবো না। আমরা যদি একটা কমাও পরিবর্তন করি, সেটাও হবে সংবিধানের সংস্কার।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাজটাই হবে সংশোধনের এবং সেই সংশোধনের জন্য আমরা আহ্বান করেছি তাদের (বিরোধী দল)। আমরা সবাই বসবো। একটা সংবিধান একদিনের জন্য পরিবর্তন হয় না। কাজেই আমরা সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই তাদের সবাইকে দাওয়াত করেছি এবং সবার মতামত নিয়েই আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই।’

 

জামায়াতের পক্ষ থেকে সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভার কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির এই নেতারা জানান, আজ তাদের স্থায়ী কমিটির কোনও বৈঠক ছিল না। তারা প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সেখানে গিয়েছেন, কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এ বিষয় নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন দল থেকে এবং এই দল তাকে মনোনীত করেছে। দলের মিটিং যেখানে হয়েছে, সেটা কোনো মিটিং নয়। যেটা হয়েছে, আমরা আলোচনা করেছি। আলোচনা যেকোনও জায়গায় হতে পারে। সেখানে আমরা আলোচনা করে.. আগেই সিদ্ধান্ত ছিল, সেটাকে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন (রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন)। আমাদের চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন।’

একই কথা জানিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আজ কোনও মিটিং ছিল না। যেহেতু উনি প্রধানমন্ত্রী, উনি দলেরও চেয়ারম্যান। ওনাকে আমরা দায়িত্ব দিয়েছিলাম। উনি আমাদের ডেকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।’

এসময় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘এটা স্থায়ী কমিটির মিটিংও না। স্থায়ী কমিটি আগেই ওনাকে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল।’

এসময় মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে পরবর্তী মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী কে হচ্ছেন জানতে চাইলে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এটার জন্য অপেক্ষা করেন, পরে শুনবেন’।