Image description

র‍্যাবের নাম বদলে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন—এসআরবি’ করা হচ্ছে। কিন্তু শুধু নাম বদলালেই কি র‍্যাবকে ঘিরে দুই দশকে তৈরি হওয়া বিতর্ক, আস্থার সংকট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের সমাধান হবে? নাকি নতুন নামে পুরোনো বাহিনীর বড় অংশই থেকে যাবে? মানবাধিকারকর্মীদের মতে, কাঠামোর মৌলিক সমস্যাগুলো অক্ষুণ্ন রেখে নাম পরিবর্তন করা হলে সেটি সরকারের একটি ‘কৌশলগত সমাধান’ হতে পারে, কিন্তু তাতে সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হবে না।

তবে সরকারের তৈরি খসড়া বলছে, পরিবর্তন শুধু নামে সীমাবদ্ধ থাকছে না। কমান্ড কাঠামো, মহাপরিচালক নিয়োগ, সদস্যদের প্রেষণের মেয়াদ, অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার, তল্লাশি-গ্রেফতার, অভিযোগ প্রতিকার ও শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থায় বেশ কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটি নেতৃত্বে। বর্তমান আইনে সামরিক বাহিনীসহ অন্য শৃঙ্খলা বাহিনীর সমমর্যাদার কর্মকর্তার র‍্যাবের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার আইনি সুযোগ থাকলেও এসআরবির মহাপরিচালক হতে পারবেন শুধু পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি পর্যায়ের কর্মকর্তা। ‘র‍্যাব’ বা ‘এসআরবি’ যে নামেই হোক; প্রশ্ন হচ্ছে, নতুন আইনে বাহিনীটির ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহির কাঠামো আসলে কতটা বদলাচ্ছে।

গত ১৮ মে র‍্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বলেছিলেন, ‘সরকার কেবল নাম পরিবর্তনের কথা ভাবছে না। র‍্যাবের বিদ্যমান আইনকে যুগোপযোগী ও বিশ্বমানের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যাতে সদস্যদের পেশাদারত্বের পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়।’ একই সঙ্গে নাম পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় থাকার কথা জানান তিনি। 

সেদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘র‍্যাবের জনবলের ৪৪ শতাংশ পুলিশ, ৪৪ শতাংশ সশস্ত্র বাহিনী এবং বাকি অংশ আনসার, বিজিবি ও বেসামরিক কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত। সরকারের লক্ষ্য মানবাধিকার সমুন্নত রেখে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স তৈরি করা।’ কিছু কর্মকর্তার আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের দায় পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর দেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়েও সরকারের বিবেচনা রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছিলেন, নতুন আইনের অধীনে বাহিনীকে সংস্কার, পুনর্গঠন বা নতুনভাবে নামকরণ করা হলে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৯ পৃষ্ঠার খসড়া এবং বিদ্যমান আর্মড পুলিশ অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯ এবং ২০০৩ সালের সংশোধনীসহ— পর্যালোচনায় অন্তত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য সামনে আসে।

শীর্ষ নেতৃত্ব শুধু পুলিশ থেকে

বর্তমান আইনি কাঠামোয় র‍্যাব আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অংশ। বিদ্যমান আইনে র‍্যাবের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধানে পুলিশের ডিআইজি অথবা অন্য কোনও শৃঙ্খলা বাহিনীর সমমর্যাদার কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ আছে। ২০০৩ সালের সংশোধনের মাধ্যমে র‍্যাবের জন্য আলাদাভাবে ৬এ, ৬বি, ৬সি ও ৬ডি— চারটি ধারা যুক্ত করা হয়েছিল। 

নতুন খসড়ার ৭ ধারায় বলা হয়েছে, এসআরবির মহাপরিচালককে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সরকার নিয়োগ করবে। ৮ ধারায় আইজিপির সাধারণ নিয়ন্ত্রণের অধীনে মহাপরিচালকের আদেশ ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইউনিট পরিচালনার কথা রয়েছে। 

ফলে সেনা, নৌ, বিমান বা অন্য শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এসআরবিতে কাজ করতে পারবেন, কিন্তু খসড়াটি অপরিবর্তিত থাকলে তাদের কোনও কর্মকর্তা মহাপরিচালক হওয়ার সুযোগ পাবেন না। এখানে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য— আইনে অন্য বাহিনীর কর্মকর্তার সুযোগ থাকলেও বিগত বছরগুলোতে র‍্যাবের মহাপরিচালক পদে অতিরিক্ত আইজি পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারাই দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালে এ কে এম শহিদুর রহমান এবং চলতি বছর আহসান হাবীব পলাশ এই পদে নিয়োগ পান। 

পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট

বর্তমানে র‍্যাবের আইনি অস্তিত্ব আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের মধ্যে। নতুন খসড়ার ৪ ধারায় এসআরবিকে সরাসরি বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর সদর দফতর থাকবে ঢাকায়। সরকারের অনুমোদন নিয়ে প্রয়োজনে দেশের অন্য স্থানে অধীনস্থ ইউনিট স্থাপন করা যাবে। অর্থাৎ জনবলে বহুবাহিনীর অংশগ্রহণ থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির আইনি পরিচয় ও কমান্ড আরও স্পষ্টভাবে পুলিশকেন্দ্রিক করা হচ্ছে।

বহুবাহিনীর সদস্যরা থাকবেন, তবে নতুন শর্ত দুই বছর

সেনা, নৌ, বিমানসহ অন্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সদস্য নেওয়ার ব্যবস্থাটি বাদ দেওয়া হয়নি। এখানেই মানবাধিকার কর্মীরা আপত্তি তুলছেন। তবে বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে একটি পার্থক্য আছে। খসড়ায় প্রেষণ, পদায়ন বা অস্থায়ী সংযুক্তিতে আসা সদস্যকে সাধারণভাবে ন্যূনতম ২ বছরের জন্য এসআরবিতে রাখার বিধান করা হয়েছে। যথেষ্ট কারণ থাকলে মহাপরিচালক আইজিপির মাধ্যমে সরকারকে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে তার মূল বাহিনীতে ফেরত পাঠানোর সুপারিশ করতে পারবেন। ফলে বহুবাহিনী থেকে সদস্য নেওয়ার মূল কাঠামো থাকছে, তবে মেয়াদে নতুন আইনি শর্ত যুক্ত হচ্ছে।

তদন্তে সরকারের পাশাপাশি আদালত ও আইজিপি

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে তদন্তে। বর্তমান র‍্যাব কাঠামোয় সরকারের নির্দেশে র‍্যাব কোনও অপরাধ তদন্ত করতে পারে। ২০০৩ সালের সংশোধনীতে র‍্যাবের তদন্তের জন্য পৃথক বিধান যুক্ত হয়েছিল। খসড়ার ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, আদালত, সরকার অথবা পুলিশ মহাপরিদর্শক যেকোনও সময় এসআরবির মহাপরিচালককে কোনও ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন। মহাপরিচালক অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার সদস্যকে তদন্তের দায়িত্ব দেবেন। এখানে ক্ষমতার উৎস বিস্তৃত হলেও ১৫ ধারার তদন্ত আদালত, সরকার বা আইজিপির নির্দেশের সঙ্গে যুক্ত।

দায়িত্বের তালিকা আরও নির্দিষ্ট

খসড়ার ১০ ধারায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বেআইনি অস্ত্র-গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য দমন, সাইবার অপরাধ, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনসহ বিভিন্ন দায়িত্বের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও পাচারের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রয়েছে। যদিও এসব কাজের অনেকগুলো র‍্যাব আগে থেকেই করে আসছে। 

গ্রেফতারের পর থানায় সোপর্দ, তবু নিজস্ব হাজতখানা

খসড়ার ১২ ও ১৩ ধারায় নির্দিষ্ট অপরাধে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা এবং প্রয়োজনে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী পুলিশ কর্মকর্তার ক্ষমতা প্রয়োগের বিধান রয়েছে। ১৪ ধারায় আবার স্পষ্ট বলা হয়েছে, এসআরবির সদস্য কাউকে গ্রেফতার বা আলামত জব্দ করলে ফৌজদারি কার্যবিধি মেনে গ্রেফতার ব্যক্তি ও আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানায় সোপর্দ বা হস্তান্তর করবেন। কিন্তু ১৫ ধারায় তদন্তের প্রয়োজনে এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার প্রস্তাবও রয়েছে। 

এ কারণে একটি আইনি ব্যাখ্যার জায়গা তৈরি হচ্ছে—অনতিবিলম্বে থানায় হস্তান্তরের বিধান থাকলে এসআরবির হাজতখানাটি কোন পরিস্থিতিতে এবং কার জন্য ব্যবহার হবে। খসড়ায় এর সময়সীমা বা ব্যবহারের পরিস্থিতি আলাদাভাবে বিস্তারিত করা হয়নি। চূড়ান্ত আইনে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলে হেফাজত নিয়ে ভবিষ্যৎ বিতর্কের সুযোগ কমবে।

অভিযোগ প্রতিকারে নতুন কমিটি

খসড়ার ২২ ধারায় নাগরিকের অভিযোগ এবং এসআরবি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পাঁচ সদস্যের অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। সেখানে এসআরবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ অধিদফতরের একজন অতিরিক্ত আইজিপি পর্যায়ের কর্মকর্তা, লিগ্যাল ও মিডিয়া পরিচালক এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত একজন ব্যক্তিকে রাখার কথা বলা হয়েছে। 

কমিটি অভিযোগ অনুসন্ধান করতে পারবে, প্রয়োজনে তদন্তের উদ্যোগ নিতে পারবে এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে। তবে এই ব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, তার দৃষ্টিতে নাম পরিবর্তন হলেও পুরোনো কাঠামোর বড় অংশ থেকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কোনও অবস্থাতেই সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী বা অন্য বাহিনীর সদস্যদের যুক্ত করে নাগরিকের নিরাপত্তার বলয় তৈরি করা ঠিক না।’ এতে, বাহিনীকে ঘিরে মানুষের মধ্যে যে প্রশ্ন রয়েছে, তার মৌলিক সমাধান না করে নাম পরিবর্তন করা হলে সেটি সরকারের একটি ‘কৌশলগত সমাধান’ হিসেবেই দেখা হবে। অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থাও প্রকৃত অর্থে কতটা স্বাধীন হবে, সেই প্রশ্নও রয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

শৃঙ্খলা ও দায়মুক্তিতেও পার্থক্য

খসড়ায় সদস্যদের অসদাচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, বেআইনি আদেশ পালন, নির্যাতন বা অন্যায় আচরণসহ বিভিন্ন বিষয় শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধান ও বিভাগীয় ব্যবস্থার বিধানও রয়েছে। নতুন বিধি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান র‍্যাবের কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ প্রয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। 

আরেকটি পার্থক্য হলো, বিদ্যমান আইনে দায়িত্ব পালনের সময় ‘গুড ফেইথ’ –এ করা কাজের জন্য যে স্বতন্ত্র আইনি সুরক্ষা রয়েছে, ৯ পৃষ্ঠার এসআরবি খসড়ায় তার অনুরূপ আলাদা ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তির ধারা দেখা যায় না। তবে এটিকে ‘সব ধরনের আইনি সুরক্ষা তুলে দেওয়া হচ্ছে’ বলা ঠিক হবে না বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। 

নাম বদলালেও আইনি উত্তরাধিকার থাকবে

র‍্যাব বিলুপ্ত করে শূন্য থেকে নতুন বাহিনী তৈরির প্রস্তাবও খসড়ায় নেই। রহিতকরণ ও হেফাজত ধারায় র‍্যাবের সম্পদ, অধিকার, দায়-দায়িত্ব, রেকর্ড, চুক্তি, চলমান কার্যক্রম, তদন্ত ও মামলা এসআরবির অধীনে অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যমান বিধি, আদেশ ও কার্যধারাও প্রয়োজনীয় অভিযোজনের মাধ্যমে চলতে পারবে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের প্রস্তাবকে শুধু ‘নাম বদল’ বললেও পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। আবার একে সম্পূর্ণ নতুন বাহিনী বলাও সঠিক হবে না। র‍্যাবের জনবল ও অপারেশনাল সক্ষমতার বড় অংশ রেখে নেতৃত্ব, আইনি পরিচয়, তদন্তের নির্দেশ, প্রেষণের মেয়াদ এবং অভিযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার প্রস্তাবই খসড়ার মূল বৈশিষ্ট্য। শেষ পর্যন্ত বিতর্কটিও এখানেই। 

সরকারের বলছে, নতুন আইন বাহিনীকে আরও পেশাদার, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করবে। আর নূর খান লিটনের প্রশ্ন, এই পরিবর্তনগুলো কি র‍্যাবকে ঘিরে দীর্ঘদিনের আস্থার সংকট কাটানোর মতো মৌলিক, নাকি নতুন নামে পুরোনো কাঠামোরই সংশোধিত রূপ?