Image description

জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের পরিবারের ১০ জন সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রধানমন্ত্রী চাকরির নিয়োগপত্র দেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু।

 

চাকরির নিয়োগপত্রপ্রাপ্তরা হলেন শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি, শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী, গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তার।

উপপ্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের চাকরির নিয়োগপত্র দিয়েছেন। তিনি তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মানুষের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে বলেন, এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের আমরা হারিয়েছি, যারা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল; সেটি হলো বাংলাদেশকে আরও ভালো করা।’

রাষ্ট্র ও সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা কী পেলাম, সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়; বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে সম্প্রতি চাকরিতে যোগ দেওয়া শহীদ আব্দুল্লাহ বীন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্নাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।

শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাই যোদ্ধারা চাকরির নিয়োগপত্র পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলে জানান উপপ্রেস সচিব।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: পিএমও

তিন জুলাই যোদ্ধাকে অটোরিকশা, রিকশা উপহার

জীবিকা নির্বাহের জন্য তিন জুলাই যোদ্ধাকে সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারি ও প্যাডেলচালিত রিকশা উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব শাহরিয়ার পামির বলেন, প্রধানমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের আত্মকর্মসংস্থান ও জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করতে সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও প্যাডেলচালিত রিকশা উপহার দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা, পরিবার ও জীবিকা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাসিন্দা এবং মিরপুর বাংলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজিজ শেখকে প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন একটি সিএনজি অটোরিকশা।

আজিজ শেখ বলেন, ‘সিএনজি চালিয়ে আমি নিজের লেখাপড়া ও পরিবার চালাই। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মিরপুর-১০ এলাকায় অংশ নিয়ে আমি গুলিবিদ্ধ হই। আমার শরীরে ৩৬টি গুলির স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।’

তাকে ‘পড়াশোনা অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে’ বলে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

কুষ্টিয়ার মো. গফফারকে দুটি প্যাডেলচালিত রিকশা এবং বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আসাদুল হক বিশুকে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে গফফার রাজধানীর মহাখালী এলাকায় আন্দোলনকারীদের নিয়মিত পানি সরবরাহ করেছিলেন এবং নিজের রিকশায় আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলেন। গফফার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই উপহারের একটি রিকশা ঢাকায় চালিয়ে আমি জীবিকা নির্বাহ করব এবং অন্যটি ভাড়া দেব।’

বগুড়ার আসাদুল হক বিশু বলেন, ‘কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছিলাম। এই উপহারের ফলে আমার বিরাট উপকার হবে।’

প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে উপহার পাওয়া বাহনগুলো কীভাবে পরিচালনা করা হবে তা প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি তারা কীভাবে নিরাপদে এসব বাহন নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাবেন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।