ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ব্যাংক খাত জিম্মি ছিল কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠীর হাতে। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দুই বছর এসব শিল্পগোষ্ঠীর ব্যাংকগুলো থেকে অর্থ লুটপাটের তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ব্যাংক খাতে সংস্কার শুরু করে। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলমান আছে।
গত দুই বছরে খেলাপি ঋণ কমাতে নীতি সহায়তা, দখল হওয়া ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করার পাশাপাশি দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একইসঙ্গে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার কার্যক্রমেও হাত দিয়েছে।
নানা সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকে সৃষ্ট খেলাপি ঋণ, মূলধন সংকট, প্রভিশন ঘাটতি ও তারল্য সংকটের ভার এখনো বহন করছে ব্যাংক খাত। তবে গত দুই বছরে রিজার্ভ, ডলার বাজার স্থিতিশীল, রেমিট্যান্স ও আমানত প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত দেড় দশকে রাজনৈতিক প্রভাব, নিয়ন্ত্রণহীন ঋণ বিতরণ এবং অর্থ পাচারের মাধ্যমে ব্যাংক খাতে যে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা অল্প সময়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু করা সংস্কার কার্যক্রম বর্তমান সরকারও অব্যাহত রেখেছে। তবে সংকটের গভীরতা এত বেশি যে এ খাত ঘুরে দাঁড়াতে আরো কয়েক বছর লেগে যাবে। যদি সংস্কার কার্যক্রম চলমান রাখা না যায় তাহলে খাতটি আরো গভীর সংকটে পড়বে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের ব্যাংক খাত ছিল তীব্র সংকটে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দ্রুত কমছিল, ডলারের বাজার ছিল অস্থির, উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ ছিল অর্থনীতিতে এবং কয়েক ডজন ব্যাংক তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতেও হিমশিম খাচ্ছিল।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক একের পর এক সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেয়। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু, খেলাপি ঋণ তুলে আনা এবং খেলাপি নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন প্রস্তাব, দেউলিয়া আইন সংস্কার, অ্যাসেস্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি গঠন প্রস্তাব এবং পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমান সরকারও এসব সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
রিজার্ভ বেড়েছে ১১ বিলিয়ন
গত দুই বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে বাজারে ডলারের স্থিতিশীলতা ফিরেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার। গত জুলাই শেষে তা বেড়ে হয়েছে ৩৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে রিজার্ভ বেড়েছে ১১ বিলিয়ন ডলার।
এ সময় ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় ডলার বাজার অস্থিতিশীলতা শুরু হয়। অস্থিতিশীল এমন পর্যায় পৌঁছায় যে আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করতে হয়েছিল। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার বিক্রি করতে হয়। এসব কারণে রিজার্ভের দ্রুত পতন হয়।
তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্তানুযায়ী বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা চালু করেছে। এই পদক্ষেপ বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে স্থিতিশীল ফেরে। খোলাবাজারের দামের সঙ্গে অফিসিয়াল দামের পার্থক্য কমে আসায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতারা অর্থছাড় করতে শুরু করেছে।
রেমিট্যান্স বৃদ্ধি
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রতি মাসে যেটি ২ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে ছিল। এখন তা আড়াই থেকে তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে মোট ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছিল, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৬ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স দেশে আসে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ থেকে টাকা পাচারের পথ অনেকটাই সংকুচিত হয়ে এসেছে। এ কারণে বিদেশে হুন্ডি কারবারিদের চাহিদাও কমেছে। কালোবাজারে চাহিদা কমলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ে। বর্তমানে ব্যাংক খাতে রেমিট্যান্স প্রবাহে যে উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে, এটি তারই প্রভাব।
আমানতে উচ্চ প্রবৃদ্ধি
আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে ব্যাংকগুলোতে আমানত রাখার প্রবণতা কমে যায়। ওই সময়ে আমানতের প্রবৃদ্ধি ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যেই ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংক খাত সংসারের উদ্যোগের ফলে ব্যাংক খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি বেড়ে সাড়ে ১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির সুবিধা সব ব্যাংক সমানভাবে পায়নি। তুলনামূলক শক্তিশালী ব্যাংকগুলোতে আমানত বাড়লেও দুর্বল ব্যাংকগুলো এখনো দৈনিক জমার অর্থ দিয়ে দৈনিক উত্তোলনের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। ফলে তাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংক থেকে ধার করে তারল্য চাহিদা মেটাতে হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতি কমেছে
আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বছরগুলোতে দেশে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার পেছনে অতিরিক্ত টাকা ছাপানো, ডলারের সংকট এবং বড় অঙ্কের ব্যাংক ঋণ প্রধান ভূমিকা রেখেছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ। চলতি বছরের জুনে তা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমেছে। সুদহার কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পলিসি রেট কয়েক ধাপে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করেছে। এতে ব্যাংক ঋণের সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী। ফলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন।
খেলাপি ঋণ ঊর্ধ্বমুখী
ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখনও খেলাপি ঋণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল দুই লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে প্রভিশন ঘাটতি ছিল ২৪ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ব্যাংক খাতের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা আড়াল করা হয়েছিল। খেলাপি ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং জালিয়াতির প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক চিত্র প্রকাশ হতে শুরু করে। এর ফলে এতদিন গোপন থাকা বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতির তথ্য সামনে আসে। চলতি বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়। একই সময়ে প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে হয়েছে দুই লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা।
এদিকে মূলধন পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বিপরীতে ব্যাংক খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার হার গত বছর ঋণাত্মক দুই দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে গেছে। যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে চর্চিত ব্যাসেল-৩ নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর সিআরএআর সর্বনিম্ন ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ থাকার কথা। কার্যকর অর্থনীতির কোনো দেশের ব্যাংক খাতের গড় মূলধন ঋণাত্মক ধারায় চলে যাওয়াকে আধুনিক বিশ্বের বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, খেলাপি কমাতে বিশেষ নীতি সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। এক শতাংশ অর্থ দিয়ে গ্রাহকরা ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারে। একই সঙ্গে সুদ মওকুফ করে এক্সিট সুবিধাও দেওয়া হয়। এসব সুবিধা দেওয়া হলেও খেলাপি ঋণ প্রত্যাশিত হারে কমছে না। কারণ বড় অংশের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে ঋণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে। খেলাপি ঋণের কারণে প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতি বাড়ছে।
সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে
ব্যাংক খাতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ আরো বেড়েছে। গত বছর রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিলের পরও বেশিরভাগ সূচকের অবনতি হয়েছে। বছর শেষে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এক বছরে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে তিন লাখ ৩১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকায়। এর মধ্যে খেলাপি হিসেবে দেখানো হয় পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। পুনঃতফসিলের পর অনাদায়ী রয়েছে চার লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। আর অবলোপন করা অনাদায়ী স্থিতি রয়েছে ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা।
এক বছর আগে মোট ঋণ স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ১১ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে পুনঃতফসিল করা অনাদায়ী ঋণ তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ছিল তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। এছাড়া অবলোপন করে অনাদায়ী ঋণ স্থিতি বেড়ে ২০২৪ সাল শেষে ৬২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের যা ছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা বা ৪৪ দশমিক ২১ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্দশাগ্রস্ত এসব ঋণের বড় অংশই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সৃষ্ট। তবে ওই সময় এসব ঋণ কৌশলে নিয়মিত দেখানো হতো। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রকৃত চিত্র দেখাতে শুরু করে। এদিকে অনিয়ম-জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী অনেকেই পালিয়েছেন। কেউ কেউ কারাগারে। ব্যবসায়ীদের খুশি করতে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগ থেকে একের পর এক সুবিধা দেওয়া শুরু হয়। কখনো নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল, কখনো দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ১২ বছরের জন্য ঋণ নবায়ন কিংবা পুনর্গঠন করা হয়। তবে সেসব ঋণের বড় অংশই এখন খেলাপি হওয়ায় পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। অবশ্য অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পর গত বছর শেষদিকে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়।
সংস্কার
ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকি কমানো, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনরুদ্ধারে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রচলিত কমপ্লায়েন্সভিত্তিক তদারকির পরিবর্তে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা, যাতে আগেভাগেই দুর্বলতা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। একই সঙ্গে সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন, দুর্বল পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ বা অবসানের জন্য ব্যাংক রেজল্যুশন ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, গত দুই বছরে ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে খেলাপি ঋণ আদায়, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, মূলধন ঘাটতি পূরণ এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন ছাড়া এই খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট কাটানো সম্ভব হবে না। তাদের মতে, গণঅভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকাই এখন ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।