জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের পর নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
আজ বুধবার দুপুরে কলেজের গ্রুপের সংঘর্ষের পর বিকেলে ইসদাইর এলাকায় অবস্থিত তোলারাম কলেজের ‘শেরেবাংলা ছাত্রাবাস’ বন্ধের ঘোষণা দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ।
তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম ও হোস্টেল সুপার স্বাক্ষরিত এক নোটিশে বিকাল ৪টার মধ্যে এই ছাত্রাবাসের আবাসিক ছাত্রদের হল ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ছাত্রাবাস বন্ধ থাকবে বলেও জানানো হয়।
দুপুরে চাষাঢ়ায় সরকারি তোলারাম কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় দুইপক্ষের পাঁচজন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর ছাত্রাবাস বন্ধ করার ঘোষণা দেয় প্রশাসন।
এই ঘোষণার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রাবাসে গিয়ে ছাত্রশিবিরের অনুসারীদের বের করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সেখানে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত হন। ছাত্রাবাস থেকে দুইজন ছাত্রকে পুলিশের ভ্যানে তুলতে দেখা যায়।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগর শাখার সভাপতি অমিত হাসা জানান, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাত্রাবাসে ঢুকে কয়েকজনকে মারধর করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু কয়েকজন ছাত্র এই মুহুর্তে ছাত্রাবাস ছাড়তে চান না। এ নিয়ে কিছুটা উত্তেজনা চলছে। সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
এ দিকে তোলারাম কলেজের পাশে ‘ছাত্রী নিবাসের’ ছাত্রীদেরও হল গেইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি শিথিল না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রী নিবাসের কাউকে বের হতে না দেওয়ার জন্য দারোয়ানকে নির্দেশনা দিয়েছেন হল সুপার।