Image description

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে হঠাৎ করেই পাগলা ও বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের আক্রমণে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

আতঙ্কে অনেক পরিবার প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। সন্তানদের স্কুল-কলেজে পাঠাতেও শঙ্কায় রয়েছেন অভিভাবকরা। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে পৌর এলাকার সাতপোয়া গ্রামে। শতবর্ষী বৃদ্ধা অবিরন বেওয়া বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে গেলে একটি পাগলা কুকুর তাকে আক্রমণ করে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কামড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। তার চিৎকার শুনে স্বজনরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে এলে কুকুরটি পালিয়ে যায়। একই দিন কুকুরটি এক এলাকাতেই নারী, পুরুষ ও শিশুসহ আরও অন্তত ১৫ জনকে কামড়ে আহত করে।

শুধু সাতপোয়াই নয়, উপজেলার হাটবাড়ী, শুয়াকৈর, বিলবালিয়া, ঝালুপাড়া, আরামনগর, শিমলাবাজার, বাউসি, আওনা, পিংনা ও ছাতারিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ ও পাগলা কুকুরের অবাধ বিচরণে জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তাঘাট, হাটবাজার কিংবা বাড়ির আঙিনা— যেখানেই মানুষ বা গবাদিপশু পাচ্ছে, সেখানেই হামলা চালাচ্ছে কুকুরগুলো। মানুষ ছাড়াও হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলও রেহাই পাচ্ছে না।

 

আহত মালেকা বলেছেন, কুকুরের কামড়ানো ভাতিজিকে দেখতে বের হয়েছিলাম। তখনই কুকুরটি আমাকে আক্রমণ করে হাত ও মুখে কামড় দেয়। এখন ভয়েই বাইরে বের হতে পারি না। সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও সাহস হচ্ছে না। ছোট ছোট বাচ্চারা আতঙ্কে স্কুল-কলেজে যেতে চাইছে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কার্যকর সচেতনতামূলক কর্মসূচি কিংবা বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। তারা দ্রুত কুকুর নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জেবা তাহসিন বললেন, প্রতিদিনই কুকুর, সাপ ও বিড়ালের কামড়ে আহত রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। গত কয়েকদিনে অর্ধশতাধিক মানুষকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে। অযথা আতঙ্কিত না হয়ে কুকুরের কামড়ের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

সরিষাবাড়ী পৌর প্রশাসক লিজা রিছিল মনে করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে টিকাদানের আওতায় আনার বিষয়েও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।