Image description

জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় মো. নাজমুল মিয়া হত্যার ঘটনায় করা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। 

 

পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত এই আদেশ দেন।  

প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।  

গত ৩০ জুলাই এই মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসাবে তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আখতারুজ্জামান সরকার। ওইদিন আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন আজ সোমবার।  

আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তে নেমে পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি জামিন পেলে পুনরায় সাধারণ জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত  তাকে এই মামলায় গ্রেফতার করে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। 

 

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম, শামীম আল সোহাগ সাইফুল ও জাকির হোসাইনসহ অনেকে এই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর বিরোধিতা করে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এর বিরোধিতা করা হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।   

অজয় করের আইনজীবী ওবায়দুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এখন পর্যন্ত তিনি মোট তিনটি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। তাকে গ্রেফতার না দেখাতে হাইকোর্টের আদেশ আছে। সেটাকে আজ ভায়োলেট করে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। যেটা সম্পূর্ণ অমানবিক এবং সংবিধান পরিপন্থি।  

মামলার অভিযোগে সুত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমাতে ২৪ সালের ৪ আগস্ট ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়া এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেপরোয়া হামলা চালায়। ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর পাশাপাশি এলোপাথাড়ি গুলি ছোঁড়ে হামলাকারীরা। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন মো. নাজমুল মিয়া। পরবর্তী সময়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর সহকর্মী মোহাম্মদপুর থানায় এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনের নামে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।  

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে গুলশান এলাকা থেকে অজয় কর খোকনকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাকে গুলশান থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।