পারিবারিক কলহে মাগুরা শহরের ভায়না টিটিডিসিপাড়া এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারে আগুন দিয়ে শিপলু মুন্সী (৪৫) নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিপলু মুন্সী ওই এলাকার আকবর মুন্সীর ছেলে।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে শিপলু মুন্সী পরিবারের সবাইকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ভেতর থেকে দরজা আটকে দেন। পরে ঘরের ভেতরে গ্যাস সিলিন্ডারের সংযোগ খুলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাইরে থেকে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন।
স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ঘরের ভেতর থেকে শিপলু মুন্সীর মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহতের ছেলে পাভেল মুন্সী জানান, রোববার রাতে হঠাৎ করে তার বাবা পরিবারের সবাইকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সোমবার সকালে আবারও সবাইকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতর থেকে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
তিনি আরও জানান, তার বাবা আগে থেকেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘটনার দিন সকালে তাকে কাজে যাওয়ার কথা বললে তিনি জানান, তিনি আর কাজে যাবেন না।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার আগের রাতেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিপলু মুন্সীর ঝামেলা হয়েছিল। সকালে তার স্ত্রীকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হলে তিনি চিকিৎসার জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে যান। পরে হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে ঘরে আগুন দেখতে পান। আগুনে ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মাগুরা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আহমেদ জানান, সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে টিটিডিসিপাড়া এলাকা থেকে আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে ঘরের ভেতর থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।