হার্ট অ্যাটাক মানেই বুকে তীব্র ব্যথা হবে এবং সেই ব্যথা বাম হাতে ছড়িয়ে পড়বে, এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, বাস্তবে সব হার্ট অ্যাটাক একই রকম হয় না। অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে, আবার কারও কারও ক্ষেত্রে ব্যথা খুব তীব্রও নাও হতে পারে।
বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ অনেক সময় সাধারণ বা অস্পষ্ট হতে পারে। ফলে লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব না দিলে চিকিৎসা নিতে দেরি হয়, যা জীবনহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
হার্ট অ্যাটাকে ব্যথা সব সময় বাম হাতে যায় না
বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট অ্যাটাকের সময় ব্যথা শুধু বাম হাতে নয়, শরীরের আরও বিভিন্ন স্থানে অনুভূত হতে পারে।
যেমন ডান হাত ব্যথা, দুই হাতেই ব্যথা, কাঁধ ও/বা ঘাড় ব্যথা, চোয়াল ব্যথা, পিঠ ব্যথা আর/ও/বা বুকের মাঝখান ব্যথা।
অনেকেই বুকে চাপ, ভারী অনুভূতি, জ্বালাপোড়া বা টান লাগার মতো অনুভূতির কথাও জানান।
নারীদের ক্ষেত্রে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে
গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ অনেক সময় পুরুষদের তুলনায় আলাদা হয়।
তাদের মধ্যে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বমি বমি ভাব বা বমি, শ্বাসকষ্ট, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ব্যথা, বদহজমের মতো অস্বস্তি ও মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এসব লক্ষণকে অনেক সময় গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা সাধারণ ক্লান্তি ভেবে অবহেলা করা হয়।
ডায়াবেটিস থাকলে ব্যথা কমও হতে পারে
ডায়াবেটিসের কারণে দীর্ঘদিনে স্নায়ুর ক্ষতি হলে কিছু মানুষের হার্ট অ্যাটাকের সময় তীব্র বুকব্যথা নাও হতে পারে। একে সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকও বলা হয়।
এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঘাম, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তিই প্রধান লক্ষণ হতে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি করবেন না
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
- বুকে চাপ বা ব্যথা কয়েক মিনিট ধরে থাকা
- ব্যথা হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল বা পিঠে ছড়িয়ে পড়া
- শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
- ঠান্ডা ঘাম হওয়া
- মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার অনুভূতি
- বমি বমি ভাব বা বমি
লক্ষণগুলো কয়েক মিনিট পর কমে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কেন দ্রুত চিকিৎসা জরুরি?
হার্ট অ্যাটাকের সময় হৃদ্পেশিতে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। যত বেশি সময় রক্ত চলাচল বন্ধ থাকে, হৃদ্পেশির ক্ষতিও তত বেশি হয়।
চিকিৎসকদের ভাষায়, হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো গেলে হৃদ্পেশির ক্ষতি কমানো এবং রোগীকে বাঁচানোর সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?
হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে কয়েকটি অভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।
- ধূমপান থেকে দূরে থাকুন।
- রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
- নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা করুন।
- স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবার খান।
- পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
- মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন।
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান, বিশেষ করে ঝুঁকি থাকলে।
হার্ট অ্যাটাক সব সময় একইভাবে প্রকাশ পায় না। শুধু বাম হাতে ব্যথা হলেই হার্ট অ্যাটাক হবে বা বাম হাতে ব্যথা না হলে হার্ট অ্যাটাক নয়, এমন ধারণা ভুল। বুকে অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, চোয়াল বা পিঠে ব্যথার মতো লক্ষণও হার্ট অ্যাটাকের ইঙ্গিত হতে পারে। তাই সন্দেহজনক কোনো লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
সূত্র: বিবিসি বাংলা