Image description

র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা ‘আয়নাঘর’-এর প্রমাণ ঢাকতে যারা কিছু জায়গায় দেয়াল তুলে প্রমাণ লুকানোর ঘটনায় জড়িত তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

 শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদর দফতরে থাকা এ গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘‘তদন্ত সংস্থা যখন কাজ শুরু করে তখন একটা ক্যামোফ্লেক্স তৈরি করা হলো। ভিকটিমদের কথার সাথে বন্দিশালার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি খুঁজতে গিয়ে তদন্ত সংস্থা দেখলো কিছু জায়গায় দেয়াল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। তবে সেই দেয়াল সরিয়ে ফেলার পর সেখানে ২২টি রুমের দেখা মিললো, যা ভয়াবহ। এছাড়াও সেই রুমগুলোর নিচে একটি ডেথ সেল আছে। সেটাও অনেক ভয়াবহ। মোট ২৯টি রুম ছিল। এ বিষয়ে তৎকালীন অনেকের দায় আছে, সংশ্লিষ্টদেরকে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। পরবর্তীতে যারা দেয়াল টেনে আয়নাঘর ঢেকে দিয়েছে তাদেরও বিচারের আওতায় আনছি।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘ব্যারিস্টার আরমানসহ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও র‌্যাবের এই সেলে রাখা হয়েছে। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভারতে নিয়ে ছেড়ে দিয়ে আসা হয়।’’

ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘‘আমরা একটি স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি এবং এটি অব্যাহত থাকবে।’’

 

এর আগে র‍্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর তিন বিচারকসহ প্রসিকিউশন টিম।

পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, সহিদুল ইসলাম সরদার, তাসমিরুল ইসলামসহ প্রসিকিউশন টিম ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও অংশ নেন।

 প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন ট্রাইব্যুনাল-১। ওই দিন র‍্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনের আবেদন করেন চিফ প্রসিকিউটর। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের টানা শাসনামলে এসব বন্দিশালায় বিরোধী মতাদর্শের লোকদের তুলে নিয়ে নির্যাতনসহ গুমের বর্ণনা দেন তিনি।