দশ বছর আগে পরিবারের হাল ধরতে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের মো. ফাহিম (২৯)। তার উপার্জনে দুই বোনের বিয়ে হয়েছে, জমজ দুই ভাইয়ের পড়াশোনা চলছিল, চলত পুরো সংসার। বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল, এবার দেশে ফিরলে ছেলেকে ধুমধাম করে বিয়ে দেবেন। কিন্তু একটি অগ্নিকাণ্ড মুহূর্তেই ভেঙে দিল সেই স্বপ্ন।
মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউনে একটি দোকানে আগুনে ফাহিমসহ নারায়ণগঞ্জের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
ফাহিমের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর আলীরটেক ইউনিয়নের ক্রোকের চর এলাকায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা মনির হোসেন। কারও সঙ্গে কোনো কথা বলছেন না তিনি। অন্যদিকে মা ও চার ভাই-বোনের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে আশপাশের পরিবেশ।
স্বজনরা জানিয়েছেন, ফাহিম ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মাত্র ১৮ বছর বয়সে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে কাজের সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। সেখানে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানটিতে তার কাজের ব্যবস্থা করে দেন আলীরটেক ইউনিয়নের সদস্য রওশন আলী। পরে একই এলাকার আরও কয়েকজন সেখানে কাজ করতে যান।
গত ১০ বছরে কঠোর পরিশ্রম করে ফাহিম দুই বোনের বিয়ে দিয়েছেন। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া জমজ দুই ভাই জাহিদ ও নাহিদের লেখাপড়ার পুরো খরচও বহন করছিলেন তিনি। পরিবারের পরিকল্পনা ছিল, আগামী জানুয়ারিতে দেশে ফিরে বিয়ে করবেন ফাহিম। সে জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও প্রস্তুত করা হচ্ছিল। কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না।
একই আগুনে আলীরটেক ইউনিয়নের আলী মিয়ার ছেলে আপন আহমেদ (২৩), মৃত সরব আলীর ছেলে নূর হোসেন (৫৫), তৈলখির চর এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে মো. ফয়সাল (২৬) এবং বক্তাবলী ইউনিয়নের কানাইনগর এলাকার মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে মো. শাহিনও নিহত হয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলীরটেক ইউনিয়নের সদস্য ও ওই দোকানের মালিক রওশন আলী।
তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে চারজন আলীরটেক ইউনিয়নের, একজন পাশের বক্তাবলী ইউনিয়নের এবং একজন মুন্সিগঞ্জের রিকাবীবাজার এলাকার বাসিন্দা। সবাই একে অপরের আত্মীয়।
তবে এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. ফয়েজ উদ্দিন।
তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকেও কেউ যোগাযোগ করেনি। বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
একই তথ্য জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান।