বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক গোলাম সরোয়ার হিরু মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সোমবার (২৭ জুলাই) দিনগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার সহধর্মিণী ও কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বেগম নুর আফরোজ হেপী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন সাবেক সাংসদ গোলাম সরোয়ার হিরু। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কয়েকদিন আগে তাকে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৪৯ সালের ৩০ আগস্ট বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের মধ্য কালমেঘা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন গোলাম সরোয়ার হিরু। তিনি ওই গ্রামের আহের উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে স্থানীয় সরকারে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।
গোলাম সরোয়ার হিরুর রাজনৈতিক জীবন ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। বিভিন্ন সময়ে তিনি ইসলামী ঐক্যজোট, বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। দল পরিবর্তনের কারণে একাধিকবার স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন তিনি।
স্থানীয় রাজনীতি থেকে জাতীয় পর্যায়ে উত্থান ঘটে ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে। এরপর একই বছরের জুনে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে বরগুনা-২ আসনে অংশ নেন। সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিলেও বিজয়ী হতে পারেননি।
এরপর ২০১৩ সালে বরগুনা-২ আসনের উপনির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। সবশেষ ২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আবারও আলোচনায় আসেন এই রাজনীতিক।