Image description

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রীদের হলে ২৪ ঘণ্টা প্রবেশ ও বের হওয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির একদল ছাত্রী। যাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নেত্রীরা এবং ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেত্রীরাও রয়েছেন। এজন্য ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। 

GeographicReference

 

আজ সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক হুমায়রা উপন্যাস বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অবস্থান ভিন্ন হলেও, যখন নারীর অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন আসে—আমরা একজোট হই। এ লক্ষ্যে গতকাল রবিবার (২৬ জুলাই) রাতে ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ায় আমাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করেছি। আজ আমরা ভিসিকে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে। আগামীতেও আমরা কর্মসূচি পালন করবো।

জানা যায়, আজ দুপুরে ভিসি কার্যালয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামকে স্মারকলিপি প্রদান করেন প্ল্যাটফর্মটির উদ্যোক্তারা। এদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বী ও সদস্য হেমা চাকমা, ছাত্রদলের ঢাবি শাখার ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা, কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) সানজানা চৌধুরী রাত্রি, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদের সংস্কৃতি সম্পাদক হুমায়রা উপন্যাস প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে ছাত্রী হলসমূহে প্রচলিত সান্ধ্য আইন (কারফিউ) বাতিল করে ২৪ ঘণ্টা নিয়মতান্ত্রিক প্রবেশ ও বহির্গমনের ব্যবস্থা, বৈধ পরিচয়পত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রবেশাধিকার এবং শিক্ষার্থীদের পরিবারের নারী সদস্যদের হলের রুম পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগসহ কয়েকটি যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। 

Education

 

স্মারকলিপি দেওয়ার পরে সাংবাদিকদের সানজানা চৌধুরী রাত্রি বলেন, গতকালকের সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী হলগুলোতে নারীদের প্রতি যে হয়রানি এবং বৈষম্যমূলক আচরণগুলো করা হয় বা যে নিয়মীতিগুলো আছে সেগুলো নিয়ে আমরা কথা বলি এবং সেই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য কীভাবে আমরা কাজ করতে পারি এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম করার পরিকল্পনা করি। যেটির নাম দেই আমরা ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’। সেই প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকেই আজকে আমরা একটি কর্মসূচি ঘোষণা করি এবং ভিসি স্যারের সাথে দেখা করে স্মারকলিপি প্রদান করি। সেখানে আমরা আমাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করেছি।

চেমন ফারিয়া ইসলাম মেঘলা বলেন, আমরা মূলত তিনটি দাবি নিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছি। এরমধ্যে রয়েছে-ছাত্রী হলে প্রচলিত সান্ধ্য আইন/কারফিউ বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্রী হলের গেট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে হবে; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রীদের বৈধ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্রের প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং অনুমতি সাপেক্ষে রাত্রি যাপনের সুযোগ থাকতে হবে; যেকোনো ছাত্রীদের পরিবারের নারী সদস্যদের হলের রুম পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেবে।