Image description

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে তিন সন্তানের জননী এক নারীকে নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আদালতে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও ওই নারীর দাবি, তারা স্বেচ্ছায় একসঙ্গে গেছেন এবং বিয়েও করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, উপজেলার বড়তলী-বানিয়াহারী ইউনিয়নের বানিয়াজোড়া গ্রামের বাসিন্দা সাজেদ মিয়ার স্ত্রী রাবিয়া আক্তারকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে গত ৬ জুলাই আদালতে লিখিত অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগটি আমলে নিয়ে আদালত মোহনগঞ্জ থানার ওসি মামলা রেকর্ড, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন।

আজ রবিবার সন্ধ্যায় ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন এই ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত আজব আলী (৩২) উপজেলার বড়কাশিয়া ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আজব আলীর আগেও একটি সংসার ও সন্তান রয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় ১৩ বছর আগে সাজেদ মিয়ার সঙ্গে রাবিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ তিন সন্তান রয়েছে। সবচেয়ে ছোট সন্তানের বয়স মাত্র ১১ মাস।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাবার বাড়ি মধুপুরে বেড়াতে গেলে প্রতিবেশী আজব আলী দীর্ঘদিন ধরে রাবিয়াকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে সাড়া না পেয়ে গত ৪ জুলাই রাতে পাটশলার বেড়া কেটে ঘরে প্রবেশ করেন তিনি। পরে ছুরির মুখে রাবিয়ার বাবা বকুল মিয়াকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রাবিয়াকে জোর করে তুলে নিয়ে যান। এর পর থেকে তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন আজব আলী। তার দাবি, রাবিয়াকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয়নি। তিনি স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে এসেছেন। এর আগেও দুবার তিনি তার সঙ্গে চলে এসেছিলেন, পরে পরিবারের সদস্যরা বুঝিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যান। এবার তারা বিয়ে করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

রাবিয়া আক্তারও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি নিজের ইচ্ছায় আজব আলীর সঙ্গে এসেছি। আমরা বিয়ে করেছি। অনেকেই ফোন করে ফিরে যেতে বলেছেন, কিন্তু আমি আর ফিরব না।’

এ ঘটনায় আজব আলীর দলীয় পরিচয় নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হবি মিয়া বললেন, ঘটনার পর এলাকার ৫০ থেকে ৬০ জন বাসিন্দা লিখিতভাবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। বিষয়টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় আমরা বিব্রত।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেছেন, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে মোহনগঞ্জ থানাকে মামলা রেকর্ড, আসামিকে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের আদেশ সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। তবে ওসি হারুন জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা এখনো তার হাতে পৌঁছায়নি। নির্দেশনা হাতে পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।