বরিশালের হিজলা উপজেলার হিজলা-গৌরব্দী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে ইউনিয়নের শাওড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের ফরিদ উদ্দিন ব্যাপারীকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলম শরীফ সিকদার, জসিম উদ্দীন সিকদার, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দীন বাবুর্চি এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আক্তার মাঝিসহ অন্যদের হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হিজলা-গৌরব্দী ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারসহ মেঘনার তীরে মাছঘাট নিজেদের দখলে রাখতে হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনির দেওয়ান অনুসারী ফরিদ উদ্দিন ব্যাপারী ও উপজেলার বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন খোকন দপ্তরির অনুসারী ছাত্রদল নেতা ইসমাইল মোল্লার বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষ প্রায় হামলা-পাল্টা হামলায় জড়িয়ে পড়ে।
ফরিদ উদ্দিন ব্যাপারীর গ্রুপের হামলায় ইসমাইল মোল্লার পা ভেঙে যায়। সুস্থ হয়ে কয়েক দিন আগে ইসমাইল মোল্লার মোটরসাইকেল বহর নিয়ে নিজ এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এ সময় বহরের মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ হামলার অভিযোগে ফরিদ উদ্দিন ব্যাপারীকে ক্ষতিপূরণের ৭০ ভাগ ও ইসমাইল মোল্লাকে ৩০ ভাগ জরিমানা করেন। ফরিদ উদ্দিন ব্যাপারী তাদের জরিমানা টাকা দেয়নি। এ কারণে তার ওপর ইসমাইল মোল্লা গ্রুপ ক্ষিপ্ত হয়। টাকা না দিয়ে শাওড়া বাজারে যাওয়া ফরিদউদ্দিন ব্যাপারীর ওপর হামলা করেছে।
ফরিদ উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে আমান জানান, তার বাবা হিজলা-গৌরব্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী। আছরের নামাজের পর শাওড়া বাজারে সৌজন্যসাক্ষাৎ করতে যান। এ সময় ছাত্রদল নেতা ইসমাইল মোল্লা, হিজলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রয়াত গাফফার তালুকদারের ছেলে তানভীর তালুকদার, মামুন দেওয়ানসহ সশ্রস্ত্র সন্ত্রাসীরা হামলা করে। তারা বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়েছে। লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তার এক পা ভেঙে দিয়েছে। তাকে রক্ষায় অন্যরা গেলে তাদেরও পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছে।
বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত কয়েকজনের ফোনে কল দেওয়া হলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান বলেন, ঘটনাটি শোনার পর পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।