Image description

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সরকার নতুন নীতিমালা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ করছে। এ লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির সূচনা হয়েছে সিলেট বিভাগ দিয়ে।

আজ রবিবার বিকালে সিলেট নগরীর পিটিআই অডিটোরিয়ামে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, তদারকি, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অধিবেশন পরিচালনা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।

 

 

তিনি বললেন, ‘উন্নত বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থা হুবহু অনুসরণ নয় বরং বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফলাফলভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। প্রাথমিক পর্যায়ে ভিত্তিমূলক শিক্ষা শতভাগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয়, পারিবারিক ও নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন শিক্ষাক্রমে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশবরেণ্য বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় শিক্ষাক্রম প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে। একইসঙ্গে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নীতিমালার প্রথম খসড়া আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর পে-স্কেলসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।’

‘নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগে শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্তমানে মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। এর বাস্তবায়নে পাওয়া ত্রুটি সংশোধনে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের তদারকি, কারখানা পরিদর্শন,খাদ্য প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ ও বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘মাদার্স কমিটি’ গঠনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে ২০২৭ সালের শুরু থেকে কর্মসূচিটি সারা দেশে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’—যোগ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানালেন, ২০২৮ সালে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকেও নীতিমালার আওতায় আনা হবে। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রম, শিক্ষকের মান, অবকাঠামো ও শিক্ষা বর্ষপঞ্জি নিয়মিত তদারকি করা হবে। একইসঙ্গে বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় অধিদপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করা হবে।

সিলেটের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখওয়াত এরশেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ রানা। এ সময় সিলেট বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।