চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) ৬৩তম ব্যাচের ছাত্র প্রতীক দাসের বিরুদ্ধে নারী সহপাঠীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। টেলিগ্রামে পরিচালিত বিভিন্ন হয়রানিমূলক গ্রুপে একজন নারী সহপাঠীর মুঠোফোন নম্বর ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া আরেক নারী সহপাঠীকে যুক্ত করেছেন একটি পর্নোগ্রাফিক গ্রুপে। এ ঘটনায় তাকে বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যাচের অপর শিক্ষার্থীরা।
চমেকের ৬৩তম ব্যাচ বর্তমানে পঞ্চম বর্ষে রয়েছে এবং সম্প্রতি তাদের চূড়ান্ত পেশাগত (প্রফ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, ৬৩তম ব্যাচের একজন মেয়ে কিছু স্ক্রিনশটসহ এই বিষয়টা ব্যাচের গ্রুপে লেখে যে আমাদের ব্যাচেরই একজন ছেলে তার নাম ও মোবাইল নম্বর বেশ কিছু অশালীন টেলিগ্রাম গ্রুপে প্রোভাইড করেছে। যার কারণে এখান থেকে তার নম্বরে বেশ কিছু খারাপ ম্যাসেজ এবং হ্যারেসমেন্ট কল আসতে থাকে।
তারা বলেন, মেয়েটি জানানোর পর আরও কয়েকজন এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলে যে তাদের নম্বরেও এই ধরনের কল আসছে। এর মধ্যে একজন প্রমাণসহ দেখাল যে তাকে একটি পর্নোগ্রাফিক গ্রুপে যুক্ত করেছে প্রতীক। পরে প্রতীক গ্রুপে এই বিষয়টি স্বীকার করেছে। আমরা যেহেতু সবাই বাড়িতে, এগুলো দেখার পর সবাই মিলে তাকে বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছি। তার বিরুদ্ধে কলেজ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।
৬৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাগিব আব্দুল্লাহ নির্ঝর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি কখনো কল্পনাও করতে পারিনি নিজের ব্যাচের প্রতীকের মতো ছেলে অন্য মেয়েদের ব্যক্তিগত তথ্য টেলিগ্রামের বাজে গ্রুপে হাজার মানুষের কাছে উন্মুক্ত করে দিতে পারে।’
তাদের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রতীক দাস-এর বিরুদ্ধে সহপাঠী নারী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বিভিন্ন অশালীন, আপত্তিকর ও হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যে পরিচালিত টেলিগ্রাম গ্রুপে সরবরাহ করা এবং সহপাঠী নারী শিক্ষার্থীকে তার সম্মতি ব্যতীত পর্নোগ্রাফিক টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করার অভিযোগ এসেছে, যার সত্যতা প্রমাণসহ নিশ্চিত হয়েছে।
এতে বলা হয়, এই কর্মকাণ্ড শুধু অনৈতিক ও নিন্দনীয় নয়, বরং একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীর নৈতিকতা, পেশাগত মূল্যবোধ এবং সহপাঠীদের প্রতি ন্যূনতম সম্মানবোধেরও পরিপন্থী। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং ভুক্তভোগী সহপাঠীদের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ব্যাচের মূল্যবোধের কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে বলা হয়, একজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ড কখনোই সমগ্র ব্যাচকে প্রতিনিধিত্ব করে না। এই কর্মকাণ্ডের সম্পূর্ণ দায়ভার ব্যক্তিগত এবং এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ৬৩তম ব্যাচ সর্বসম্মতিক্রমে প্রতীক দাসকে সামাজিকভাবে বয়কট করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তার ।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে প্রতীক দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে কল কেটে দিয়েছেন। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। মৌখিকভাবেও কেউ আমাকে জানায়নি। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।