প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প) মো. শফিকুর রহমানের কথা দিয়ে আরম্ভ করা যাক। তিনি যখন ঢাকা-ময়মনসিংহ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ছিলেন, প্রায় সকল টেন্ডারে পছন্দের ঠিকাদারদের নানা কৌশলে কাজ পাইয়ে দিতেন। বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা নেয়াসহ নিজের চেয়ার শক্ত রাখতেন এবং আত্মীয়-স্বজনদের ওইসব প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ তৈরি করে দিতেন। এসব কারণে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাকে প্রকল্প পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে প্রধান প্রকৌশলী-এর দপ্তরে সংযুক্ত করে রাখা হয়েছিলো। সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিলো। কিন্তু তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে নিজের স্নেহধন্য সহকর্মী অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, বর্তমানে যিনি ঢাকা-ময়মনসিংহ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পদে আছেন, এই মোহাম্মদ আলীর মাধ্যমে তদন্ত ধামাচাপা দেন। এই তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার কাজে সহযোগিতা করেন ফ্যাসিস্ট আমলের ভোটার বিহীন নির্বাচনের একজন সংসদ সদস্য, যিনি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর দুলাভাইও বটে। ওই সংসদ সদস্যের সুপারিশে তদন্তকে অন্য খাতে প্রবাহিত করা হয়। বোর্ডের প্রভাবশালী উপপরিচালক আবু লাইস মোহাম্মদেরও (বর্তমানে চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব) এতে সহযোগিতা ছিল বলে জানা যায়।
প্রধান প্রকৌশলী মো. শফিকুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, উপপরিচালক আবু লাইস মোহাম্মদ- এরা ছিলেন পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট হিসেবে পরিচিত। যে কারণে আওয়ামী লীগ আমলে তাদের ক্ষমতার দাপট ছিল অন্যরকমের। অবশ্য ওই সংসদ সদস্যের প্রভাবও এতে কাজ করেছে। এদের মধ্যে প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী এতটা ক্ষমতাবান ছিলেন যে, সিভিল ডিপার্টমেন্ট-এর ছাত্র হয়েও জোরপূর্বক দীর্ঘদিন গ্রীড ও উপকেন্দ্রের পরিচালক পদ দখল করে রাখেন। পুরো প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ-বদলি, টেন্ডার ভাগবাটোয়ারাসহ সবকিছুতে ছিল এই সিন্ডিকেটের দাপট। অবাক ব্যাপার হলো, সেই দাপট এখনো অব্যাহত আছে। এর মূলে রয়েছেন স্বয়ং চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২২ আগস্ট, ২০২৪ এই সেনা কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান পদে প্রেষণে নিয়োগ পান। পরে জানা গেলো, তাঁর এ নিয়োগটি হয়েছে জামায়াত কানেকশনেই। চেয়ারম্যান পদে বসেই পুরোনো সিন্ডিকেটের সমন্বয়ে নতুন করে আওয়ামী-জামায়াত সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন তিনি। যা এখন এই বিএনপি আমলেও অব্যাহত আছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চেয়ারম্যান জিয়া-উল-আজিমের নেতৃত্বে গড়ে উঠা এই সিন্ডিকেটে আরও যুক্ত হয়েছেন শাহেদ শুভ (জামায়াত কর্মী), শোভন আহমেদ (জামায়াত কর্মী), সুফল চন্দ্র দে (আওয়ামী পরিবার)সহ বেশ কয়েকজন। ক্ষমতাবান উপপরিচালক আবু লাইস মোহাম্মদও জামায়াত কর্মী হিসেবে পরিচিত। প্রধান প্রকৌশলী শফিকুর রহমান নিজে জামায়াত, কিন্তু নিজের পরিবারের সদস্যরা সবাই আওয়ামী লীগের। কর্মকর্তাদের এই চক্রটিই বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। এরা যাদের অপছন্দ করেন তাদেরকে চেয়ারম্যানের ভয়ভীতি দেখানো হয়। শফিকুর রহমান তাঁর চেয়ে অভিজ্ঞ, সিনিয়র কর্মকর্তা মোস্তফা কামালকে সুপারসিড করে প্রধান প্রকৌশলী পদে বসেছেন, যেই পদের কোন যোগ্যতাই তাঁর নেই। কোন প্রকার অভিজ্ঞতা ছাড়াই চেয়ারম্যান জিয়া-উল-আজিমের আশীর্বাদে প্রধান প্রকৌশলী পদে বসে এই কর্মকর্তা নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। শফিকুর রহমান বর্তমান চেয়ারম্যান (জামায়াত সমর্থিত) মেজর জেনারেল এসএম জিয়া-উল-আজিমকে হাতের মুঠোয় এনে বুয়েটের ছোটভাই-বড়ভাই বনে গেছেন। যে কারণে জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের পরিচালক মোস্তফা কামাল স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। মোস্তফা কামাল মনে অনেক কষ্ট নিয়ে শুভাকাঙ্খীদের কাছে বলে যান, আওয়ামী বিরোধী হয়েও আওয়ামী লীগের আমলে এতোটা কষ্টে ছিলাম না।
একই সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য মোহাম্মদ আলীর পদোন্নতিতেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। চেয়ারম্যানের ব্যাচম্যাট পরিচয়ে ৪ জন যোগ্য কর্মকর্তাকে সুপারসিড করে মোহাম্মদ আলীকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর পদে বসানো হয়। শুধু তাই নয়, বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষায় দীর্ঘদিনের নিয়ম ছিলো ১ জনের বিপরীতে ৩ জনকে অর্থাৎ ১:৩ অনুপাতে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা। শুধুমাত্র চেয়ারম্যান এবং তাঁর পিএস, উপপরিচালক আবু লাইস বিভিন্ন ছক করে মোহাম্মদ আলীকে অবৈধ পদোন্নতির সুযোগ করে দেয়ার জন্য ১:৫ অনুপাতে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এর ফলে পর পর ৪ জন যোগ্য প্রার্থীকে সুপারসিড করে মোহাম্মদ আলীকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। চেয়ারম্যান এবং পিএস (ডিডি আবু লাইস) এই অপকর্মকে বৈধতা দেয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর পদোন্নতির ক্ষেত্রেও প্যানেল এর পরিবর্তে ১:৫ নিয়ম চালু করেছেন। একই সঙ্গে পদোন্নতি বাণিজ্যও আরম্ভ হয়ে গেছে। ফলে এ নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোতে প্রচণ্ড ক্ষোভ-অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
দুর্নীতিবাজ শফিকুর রহমানের মাধ্যমে বর্তমান চেয়ারম্যান জামায়াতের কর্মী হিসেবে তাঁর একান্ত সচিব (উপ-পরিচালক পদমর্যাদার) আবু লাইসকে পরিচালকের পদ খালি না থাকা সত্ত্বেও চাপ সৃষ্টি করে নিয়মনীতির কোনো রকমের তোয়াক্কা না করে পরিচালক (চ.দা), পদে পদোন্নতি দিয়েছেন। শফিকুর রহমান এবং মোহাম্মদ আলী সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সুপারসিড করে একই সিন্ডিকেটের সদস্য শোভন আহমেদকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দিয়েছেন। শুধু পদোন্নতি দিয়েই থেমে থাকেননি, অযোগ্য (জামাত কর্মী হিসেবে পরিচিত) এই কর্মকর্তাকে গ্রিড ও উপকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পদায়ন করেছেন শফিকুর রহমানের টার্গেট বাস্তবায়নের জন্য। এই শোভন আহমেদ গ্রিড ও উপকেন্দ্রে পদ না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন বহাল-তবিয়তে ছিলেন। এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন শফিকুর রহমানের আশীর্বাদে। শফিকুর রহমান নিজের প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে খুব কম থাকেন। বেশিরভাগ সময় তিনি তেলবাজি করে বেড়ান। চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এর কক্ষে সময় কাটাতে পছন্দ করেন বেশি। এ রকমের একটা কথা প্রচারিত আছে যে, যাবতীয় সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যানের পিএস এর দপ্তর থেকে হয়ে থাকে।
যেখানে টাকা ও সম্মানী আছে সেখানে শফিকুর রহমান আছেন; এটা আরইবি’র (রুরাল ইলেক্ট্রিফিকেশন বোর্ডের) সবার মুখে মুখে। আরইবি’র একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কমিটির কাজে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করেন। গুরুত্বপূর্ণ যেসব কমিটিতে ভালো টাকা বা সম্মানী আছে সেখানে তিনি নিজে এবং স্নেহধন্য কর্মকর্তাদেরও রেখেছেন। এতে কমিটির সিদ্ধান্তগুলোতে প্রভাব খাটানো সম্ভব হয়। পুরো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ওপর নিজের প্রভাব বজায় থাকে। শফিকুর রহমান আরইবি’র বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে অনুগত কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিন পদায়ন করে রেখেছেন। একেকজন কর্মকর্তা ৫-১০ বছর একই দপ্তরে আছেন, কোন পরিবর্তন হতে দেননি বা দিচ্ছেন না। যাবতীয় বিদেশ সফরে তার পছন্দ ওই জুনিয়র অফিসাররাই। কারণ এই কর্মকর্তারাই তার হাতিয়ার। এদের দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি করে দুর্নীতির রাস্তা বের করা যায়। প্রধান প্রকৌশলী শফিকুর রহমান কোন সিরিয়াল না মেনে নিজের নাম এবং তাঁর স্নেহধন্য কর্মকর্তাদের বিদেশে মালামাল পরিদর্শনের নাম প্রস্তাব করেন। চেয়ারম্যানের প্রভাব খাটিয়ে নিজে তো যান-ই, ওই সব অনুগত কর্মকর্তাদেরও বারবার বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সম্প্রতি অন্য কর্মকর্তাদের ক্ষোভ টের পেয়ে বিদেশ সফরে এরা যেতে পারেননি। তবে এ নিয়ে বিভিন্ন জনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছেন। শফিকুর রহমান তাদের নাম দিয়েছেন এক্সপার্ট কর্মকর্তা। আরইবিতে আরো অনেক ভালো এবং যোগ্য কর্মকর্তা আছেন, কিন্তু এই শফিকুর রহমানের রোষানলে পড়ে কোণঠাসা হয়ে আছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ের অধীনে মাটি ভরাট কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। ওই কাজ আইটি এন্টারপ্রাইজ ও এমএফআই জেভি নামে আওয়ামী লীগের এক প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার জন্য প্রধান প্রকৌশলী শফিকুর রহমান চাপ সৃষ্টি করেন। রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রেজাউল করিম-কে এ ব্যাপারে হুমকি দেন বলেও জানা যায়। ফলে রেজাউল করিম বাধ্য হন কাজটি ওই প্রতিষ্ঠানকে দিতে। শফিকুর রহমান গ্রিড ও উপকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে জানিয়ে দিয়েছেন, সাবেক গ্রিড ও উপকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর আশীর্বাদপুষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে গ্রিডের যাবতীয় কাজ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। শুধু তাই নয়, মোহাম্মদ আলীর সুপারিশ করা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠান যাতে টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে না পারে সেইভাবে টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরি করতে বলা হয়। এসব টেন্ডার ডকুমেন্ট তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন সিন্ডিকেটরই অন্য সদস্য সুফল চন্দ্র।
সম্প্রতি আর এম কর্পোরেশন নামে প্রতিষ্ঠানটিকে গ্রিড ও উপকেন্দ্রের কাজ যেভাবেই হোক একচেটিয়া পাইয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন দুর্নীতিবাজ শফিকুর রহমান। গ্রিড ও উপকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোন টেন্ডার মাঠ পর্যায়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয় করতে পারবে না। সব টেন্ডার গ্রিড ও উপকেন্দ্রের দপ্তর থেকে হতে হবে। অথচ ছোট ছোট সকল টেন্ডার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এর কার্যালয় থেকে করার নিয়ম রয়েছে। আর এম কর্পোরেশন নামে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতায় সড়কের বিদ্যুৎ লাইন শিফটিং-এর কাজ করে থাকে। এই কাজগুলো মোহাম্মদ আলীর সুপারিশে আর এম কর্পোরেশনকে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন শফিকুর রহমান। এক প্রতিষ্ঠানকে এতো কাজ দেয়ার বিষয়ে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও শফিকুর রহমান তা মানছেন না। প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর শ্যালক হিসেবে পরিচিত আর এম কর্পোরেশনের মালিক আরিফুর রহমান দিপু। মোহাম্মদ আলীর শ্যালকের এই মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকাকালে একজন বিদ্যুৎ শ্রমিক ঈদুল আজহার এক সপ্তা আগে লাইনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এর জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। মোহাম্মদ আলীর শ্যালকের প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে প্রধান প্রকৌশলী শফিকুর রহমান তদন্ত কমিটির আহ্বায়ককে মৃত্যুবরণকারী শ্রমিককে দায়ী করে তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে বলেন। যদিও এ ঘটনার জন্য পুরোপুরি দায়ী আর এম কর্পোরেশনের মালিক দিপু। কারণ, প্রতিষ্ঠানটি কোনো সাটডাউনের ব্যবস্থা না করে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য মরিয়া হয়ে শ্রমিককে লাইনে উঠান। হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধ করেও ঠিকাদার হিসেবে বহাল তবিয়তে থেকে প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছে প্রকৌশলী শফিকুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীর আশীর্বাদে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাযথভাবে তদন্ত হলে মোহাম্মদ আলীর শ্যালকের প্রতিষ্ঠান আর এম কর্পোরেশন কালো তালিকাভুক্ত হওয়াটা নিশ্চিত ছিল। কিন্তু প্রধান প্রকৌশলী শফিকুর রহমানের নির্দেশে মোহাম্মদ আলীর আরও শ্যালকের প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রিপোর্ট প্রদান করতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া শফিকুর রহমান ও মোহাম্মদ আলীর অনেক অপকর্ম রয়েছে যা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। বর্তমান চেয়ারম্যান জিয়া-উল-আজিমসহ এরা সকলেই একই সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়ার কারণে সব অপকর্মে পার পেয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলী গ্রিড ও উপকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী থাকাকালে শফিকুর রহমানের নির্দেশে পন্ডিত ইঞ্জিনিয়ারিং নামক একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হলেও উল্টো শফিকুর রহমান এবং মোহাম্মদ আলী চেয়ারম্যানকে দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানকে দুই বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করেন। পরবর্তীতে ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আবেদন করলে চেয়ারম্যানকে দিয়ে আজীবন কালো তালিকাভুক্ত করে রাখার হুমকি দেন। সম্প্রতি ঈদুল আজহার পরে চেয়ারম্যানের স্ত্রী-কে খুশি করার জন্যে একটি বাংলা সিনেমা দেখার আয়োজন করেন প্রকৌশলী শফিকুর রহমান ও চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব আবু লাইস। আরইবির অডিটোরিয়ামে ওই সিনেমা প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। সিনেমা দেখার আয়োজনে চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব আবুল লাইস ও প্রধান প্রকৌশলী শফিকুর রহমান চাঁদা তোলার দায়িত্ব পালন করেন। শফিকুর রহমান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা-ময়মনসিংহের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আলীকে নির্দেশ দেন ঠিকাদারদের কাছ থেকে চাঁদা তুলতে। সেই অনুযায়ী মোহাম্মদ আলী বেপরোয়া হয়ে চাঁদা তুলতে শুরু করেন এবং তিনি বিভিন্ন ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫, ১০, ১৫ লাখ টাকা করে আদায় করেন। ঠিকাদারদের জানানো হয়, কর্মকর্তাদের বুফে খাবার, দামী উপহার, গাড়িতে করে বাসা থেকে আনা-নেয়া এসবের জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন। চেয়ারম্যানসহ এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া না হলে প্রতিষ্ঠানটি অচীরেই রসাতলে যাবে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
শীর্ষনিউজ