Image description

ছাত্রজীবনে যুক্ত ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন পাবনা জেলা ছাত্রলীগের। ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখর রাখতেন রাজনীতির মাঠ। পরে দীর্ঘ সরকারি চাকরি ও বিচারিক জীবন। শেষে সবাইকে চমকে দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত হন দেশের রাষ্ট্রপতি। বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা, বিবৃতি ও বাণীতে আবারও ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ উচ্চারণ।

কিন্তু চব্বিশের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রীয় নানা আচার, স্লোগান ও বক্তব্যের ধারায় বিপরীতধর্মী পরিবর্তন। ফেরে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’। আর পদের কারণে সেটিও বেশ রপ্ত করে নিয়েছিলেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ওরফে চুপ্পু। জয় বাংলা স্লোগানে শুরু করে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগানে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন তিনি।

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি পদে মো. সাহাবুদ্দিনের আসীন হওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ছিল এক বড় চমক। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ২০২৩ সালে গুরুত্বপূর্ণ এই পদে রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে একাধিক প্রভাবশালী ও হেভিওয়েট রাজনীতিকের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জোর আলোচনায় থাকলেও তার নামটি ছিল না আলোচনাতেই। যদিও সব পূর্বাভাস ভুল প্রমাণ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বেছে নেন মো. সাহাবুদ্দিনকে। দলীয় শীর্ষ পর্যায় থেকে নাম ঘোষণার আগপর্যন্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষক তো বটেই, এমনকি ক্ষমতাসীন দলের অনেক জ্যেষ্ঠ নেতার কাছেও এটি ছিল একদমই অপ্রত্যাশিত এক সিদ্ধান্ত।

সাবেক বিচারক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের দীর্ঘ কর্মজীবন ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি থাকলেও দলীয় রাজনীতিতে তার সরাসরি ও সক্রিয় উপস্থিতি ছিল না দীর্ঘদিন। জাতীয় রাজনীতির পরিচিত ও দৃশ্যমান নেতাদের পাশ কাটিয়ে একজন পেশাদার আইনি ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিত্বকে বঙ্গভবনে পাঠানোর সিদ্ধান্তটি ছিল এক কৌশলী পদক্ষেপ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৎকালীন সরকার এমন একজনকে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে বেছে নিতে চেয়েছিল, যিনি প্রশাসনিক জটিলতা সামলাতে দক্ষ এবং যার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও আনুগত্য নিয়ে দলের অভ্যন্তরে বিতর্ক থাকবে না। কিন্তু চব্বিশের পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকায় পরিবর্তিত সরকারের সব সিদ্ধান্তেই সায় দিতে হয়েছে মো. সাহাবুদ্দিনকে। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হটানোর ‘মাস্টারমাইন্ড’দের শপথ পড়াতে হয়েছে আওয়ামী লীগ নিযুক্ত এ রাষ্ট্রপতিকেই। আওয়ামী লীগবিরোধী নানান অধ্যাদেশেও স্বাক্ষর করতে হয়েছে তাকে। এ ছাড়া বক্তব্য, বিবৃতি ও বাণীতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন।

ছাত্রজীবনে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন রাজনীতির মাঠ কাঁপিয়েছেন ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে। বঙ্গভবনের বাসিন্দা হওয়ার পরও সেখানকার প্রতিটি আয়োজন, রাষ্ট্রীয় ভাষণ, জাতীয় দিবসের বাণী এবং আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের শেষে নিয়মিতভাবে উচ্চারণ করে এসেছেন ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’। কিন্তু চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তীকালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রীয় অঙ্গনে স্লোগান ও বক্তব্যের ধারায় আসে স্পষ্ট পরিবর্তন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রীয় ভাষণ বা বাণীতে আর ‘জয় বাংলা’ বা ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ দেখা যায়নি। বরং তার বক্তব্যের সমাপ্তি ঘটত ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ উচ্চারণের মধ্য দিয়ে।