সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে দলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এবার বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন একই দলের যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দেওয়া একটি অডিও বক্তব্যে তিনি গোপনে বিয়ে করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষ্য, বৈধ ও সুন্নতসম্মত কোনো কাজ গোপনে হওয়ার কথা নয়।
গাজী এনামুল হক বললেন, ‘বৈধ কাজ হয় প্রকাশ্যে, আর অনৈতিক কাজ হয় গোপনে। ওনার এই বিয়েটাকে আপনারা সুন্নত বলে চালিয়ে দিচ্ছেন! একটি বিবাহে একজন নারী ও একজন পুরুষের চুক্তিতে যা যা থাকে, পতিতালয়েও একই কাজ হয়, সেখানেও অর্থের লেনদেন ঘটে। তবে পতিতালয়ের কাজ হারাম, আর বিবাহ হলো সুন্নত, যা প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হয়। এমনকি হিন্দুরাও ঢাকঢোল পিটিয়ে বিয়ে করে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, আপনাকে কোনো সুন্নত বা ভালো কাজ গোপনে করার এখতিয়ার কে দিয়েছে? কোন হাদিস বা সুন্নাহ আপনাকে এই শিক্ষা দিয়েছে? নিজের পদ-মর্যাদার অজুহাতে অনৈতিক কাজকে সুন্নত বলে চালিয়ে দিতে চান! ৫৮ বছরের বয়সের ব্যবধানে গোপনে একটা মেয়েকে বিয়ে করবেন, আবার সেটাকে সুন্নত বলবেন- এটা কেমন কথা? ইসলামে তো বৈধ কাজ প্রকাশ্যে করার বিধান। যা গোপনে করেছেন, সেটাকে আবার কেউ কেউ কীভাবে যুক্তি দিয়ে সঠিক প্রমাণ করতে চাইছে! আল্লাহ আমাকে মাফ করুন।
এর আগে সোমবার বিকাল থেকে গাজী নজরুল ইসলামের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমদিকে তার সমর্থকদের কেউ কেউ ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন। তবে মঙ্গলবার কয়েকটি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান জানায়, তাদের মূল্যায়নে ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি নয়।
বিতর্কের মধ্যে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ১ মিনিটে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক বিবৃতি দেন গাজী নজরুল ইসলাম। সেখানে তিনি দাবি করেন, গত ১৭ জুন পারিবারিকভাবে প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাসভবনে তার দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে তার বিরুদ্ধে প্রচারিত বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ সত্য নয়।
বিবৃতিতে তিনি আরও বললেন, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে তার গাড়িচালক এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা ওবায়দুল্লাহ বাইরে যাওয়ার পর কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন। তাদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গাজী নজরুল আরও দাবি করেন, তিনি যে ভাড়ায় নেওয়া গাড়ি ব্যবহার করতেন, সেটিও আটকে রেখে দফায় দফায় কয়েক লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনার সূত্রপাত।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, পরবর্তীতে ওবায়দুল্লাহ ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তার দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ওই ভিডিওকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।