Image description

যে বয়সে হাতে বই-খাতা থাকা আর বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই সংসারের ভারী দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়েছে ১২ বছরের শিশু আরমান ইসলামকে। বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মা ও ছোট ভাইয়ের একমাত্র অবলম্বন এখন সে।

 

প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের পথে পথে ঘুরে বাদাম, বুট ও আমড়াসহ নানা ধরনের খাবার বিক্রি করে আরমান। মাঝে মাঝে আশপাশের দোকানেও ছোটখাটো কাজ করে সে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো দিন বিক্রি বন্ধ থাকলে পরিবারটির ঘরে অনাহার বা অর্ধাহার নেমে আসে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের সাহেবপাড়া হানিফ মোড় এলাকার মৃত মিন্টু মিয়া ও রেহেনা বেগমের বড় ছেলে আরমান। কয়েক বছর আগে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মিন্টু মিয়া হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর থেকেই পরিবারটিতে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। আরমানের মা রেহেনা বেগম জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় কোনো কাজ করতে পারেন না। ছোট ভাই কারমানও শিশু। ফলে সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে আরমানের ওপর। বর্তমানে তারা নানার একটি পুরোনো বাড়িতে কোনোমতে বসবাস করছে। শিশুটির এমন পরিস্থিতিতে তার লেখাপড়াও বন্ধ হয়ে গেছে।

 

আক্ষেপ প্রকাশ করে শিশু আরমান ইসলাম বলে, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর মা ও ছোট ভাইকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি। যা আয় হয়, তা দিয়ে ঠিকমতো সংসার চলে না। আমারও স্কুলে যেতে ইচ্ছে করে। সমবয়সিদের স্কুলে যেতে দেখলে খুব খারাপ লাগে। সরকার সাহায্য করলে হয়তো আবার পড়াশোনা করতে পারতাম।’

 

প্রতিবন্ধী মা রেহেনা বেগম জানান, স্বামী মারা যাওয়ার পর প্রতিবেশীর সহায়তায় আরমান ফেরি করে খাবার বিক্রি শুরু করে। কিন্তু যা আয় হয়, তা দিয়ে নিয়মিত তিনবেলা খাবার জোটানোই কঠিন। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো ভাতা বা সহায়তাও পাননি বলে জানান তিনি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ইসলাম ও জিন্নাত আরা বেগম জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেক সময় খাবার না থাকলে প্রতিবেশীরা সাহায্য করেন। সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পেলে শিশুটির স্কুলে ফেরা সম্ভব হবে।

 

এ বিষয়ে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, ‘শিশু আরমান ও তার পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত সরকারি প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।’