সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। চলমান এই বৃষ্টিপাত আরও দুইদিন থাকতে পারে। এরপর থেকে বৃষ্টি কিছুটা কমে আসতে পারে।
বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ।
তিনি জানান, আগামী ২৫ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত দেশব্যাপী বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশব্যাপী চলমান বৃষ্টিপাত আজকের পরে আরও ২ দিন (শুক্রবার পর্যন্ত) অব্যাহত থাকার আশংকা করা যাচ্ছে।
এদিকে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় ও বাংলাদেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
এ অবস্থায় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
অন্যদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়েছে। আগামী একদিন পানি আরও বাড়তে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় এ অববাহিকার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা চলমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।