দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আমদানি বাণিজ্য কমায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শত শত শ্রমিক। উত্তরবঙ্গের অন্যতম বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই বন্দর একসময় ব্যবসায়ীদের কর্মব্যস্ততা ও পণ্যবাহী ট্রাকে ঠাসা থাকলেও এখন অনেকটাই নিষ্ক্রিয়।
আরমান হোসেনসহ কয়েকজন শ্রমিক জানান, আমদানি কমে যাওয়ায় তাঁদের দৈনিক আয় হ্রাস পেয়েছে। সারা দিন অপেক্ষা করেও অনেকে একটি গাড়ির কাজও পাচ্ছেন না। আগে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হতো, এখন অনেক দিন খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শফিকুল ইসলাম জানান, আগে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও বর্তমানে তা ২০ থেকে ২৫টিতে নেমে এসেছে। সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীরাও বেকার হয়ে পড়েছেন এবং অফিস খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক মতিউর রহমান লাবু জানান, ডলারের উচ্চমূল্য এবং ভারতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় অনেকে আমদানি বন্ধ রেখেছেন। পাশাপাশি কাস্টমসের হয়রানিকেও আমদানি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে হিলি কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার সন্তোষ সরেন জানান, এলসির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং অধিক শুল্কযুক্ত পণ্য আমদানি হ্রাস পাওয়ায় বন্দরে এই মন্দাভাব দেখা দিয়েছে।
কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৪৬ কোটি টাকা, যার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৫৯৮ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে চার শ কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে এই রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২০ কোটি টাকা।