অপকর্মের দিক থেকে বিএনপি বর্তমানে আওয়ামী লীগের রিপ্লেসমেন্টে (বিকল্পে) পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়ায় নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীর কবর জিয়ারত ও তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
শিবির সভাপতি বলেন, বিএনপির দেশব্যাপী হত্যাকাণ্ডগুলো জনমনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নিজেদের দলের অভ্যন্তরেই কোন্দলের কারণে ২১৯ থেকে ২২০ জন নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এই আন্তঃকোন্দলের কারণে হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন এবং বাড়িঘর ছেড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
এর আগে শিবির সভাপতি হেলিকপ্টারযোগে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নামেন। সেখান থেকে বোনারপাড়া সরকারি কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সাইফুল্লাহ বারীর কবর জিয়ারত এবং মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন। পরে তিনি সাইফুল্লাহ বারীর বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এ সময় হামলায় আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের হাতেও আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন তিনি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মেডিকেল বিভাগের সভাপতি ডা. এস এম খালেদুজ্জামান, গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়ারেছ সরকার, গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু, জেলা শিবিরের সভাপতি মো. ইউসুফ আল কারযাভী, সেক্রেটারি মো. ফাহিম মন্ডলসহ জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ গত ২১ জুন প্রকাশ্য দিবালোকে সাঘাটার বোনারপাড়ায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান। তারা এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মুকুলের ছুরিকাঘাতে নিহত হন সাইফুল্লাহ বারী। এ ঘটনায় গুরুতর আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন বর্তমানে ঢাকা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।