পাবনায় আর্জেন্টিনার ফুটবল খেলা উপলক্ষে নৈশভোজের খরচ জোগাতে অভিনব চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এক ব্যবসায়ীর অটোরিকশার ব্যাটারি খুলে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টারও অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ।
গতকাল বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর চর মন্ডলপাড়া এলাকার ইছামতি ক্যানেলের শালতলা ব্রিজের পাশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানায় জেলা পুলিশ। গ্রেপ্তার যুবকের নাম রাতুল ইসলাম (২৩)। তিনি পাবনা পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের মন্ডলপাড়া এলাকার মো. রাসেল ইসলামের ছেলে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ২টি সচল বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন ও ২ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার রাতুল ও তার পলাতক সহযোগীরা আর্জেন্টিনা দলের খেলা উপলক্ষ্যে বুধবার রাতে একটি বড় ধরনের ভূরিভোজের (খাওয়া-দাওয়া) আয়োজন করেছিল। এই আয়োজনের খরচের টাকা জোগাড় করতে তারা এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় তারা স্থানীয় মুদি দোকানদার জাকির হোসেনের নিকট মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। কিন্তু জাকির চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে দুপুরে বৌ বাজার ব্রিজের ওপর জাকিরের মালিকানাধীন একটি অটোরিকশা আটকে দেন তারা। আসামিরা হুমকি দেয় যে, চাঁদার টাকা না দিলে অটোরিকশার ব্যাটারি বিক্রি করে টাকা আদায় করা হবে। তবে সে সময় স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে গেলে আসামিরা অটোরিকশাটি ফেলে পালিয়ে যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, চাঁদা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে আসামিরা নতুন ও ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করে। আর্জেন্টিনার খেলা চলাকালীন সময়ে মুদি দোকানদার জাকির হোসেনের ওপর বড় ধরনের আক্রমণ বা তার বড় কোনো ক্ষতি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে তারা। এই উদ্দেশ্যে পলাতক আসামিরা রাতুলের কাছে একটি কালো ব্যাগে ভরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জমা রাখে। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অন্য আসামিরা কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে গেলেও রাতুলকে ২টি বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগাজিন ও গুলিসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ জানান, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরাধের সাথে জড়িত পলাতক বাকি আসামিদের গ্রেফতারে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।