পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এনসিপি নেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফির বিরুদ্ধে উঠেছে বিবাদমান জমিতে রাস্তা বানানোর অভিযোগ। কাফির দাবি, আদালতে রায়ের পরেই রাস্তার জন্য জমি পেয়েছেন তিনি। জমির মালিকানা দাবি করা স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, রায়ের বিরুদ্ধে করা আছে আপিল। তারপরেও জমির ওই অংশ দখল করেছেন কাফি।
বিবাদমান জমিটি উপজেলার খেপুপাড়ায়। সেটি সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রেকর্ডভুক্ত জমি বলে দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের। ওই জমির পাশেরই কাফির ৩০ শতাংশ জমি। সেখানে যাতায়াতের জন্যই বিবাদমান জমিতে রাস্তা বানাচ্ছেন কাফি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, জমিটি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ভোগদখলে রয়েছে। এর মালিকানার মামলা আদালতে বিচারাধীন। এর মধ্যেই নুরুজ্জামান কাফি ওই জমি দখল করে রাস্তা বানিয়েছেন।
অভিযোগ নাকচ করে কাফি বলছেন, বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কলাপাড়া পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিক্স লেন সড়কের পাশে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
কাফির ভাষ্য, ‘একটি সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত খবরে বলা হয়েছে আমি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন... আমি যাদের কাছ থেকে জমি কিনেছি, তাদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের ৩০ থেকে ৪০ বছরের একটি মামলা চলমান। প্রায় এক বছর আগে তারা তাদের পক্ষে মামলায় রায় পান। সেই রায়ের ভিত্তিতেই তারা আমাকে চলাচলের জন্য রাস্তার জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমি তাদের বুঝিয়ে দেওয়া জায়গাতেই রাস্তা নির্মাণ করেছি, বিদ্যালয়ের কোনো জমিতে নয়।’
জমির একপক্ষের মালিক মো. সালাউদ্দিন নয়ন বলেছেন, ‘আমরা কাফিকে ছয় শতাংশ জমি রাস্তা নির্মাণের জন্য দিয়েছি। বিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিন মামলা চলেছে। সুপ্রিম কোর্ট থেকে আমরা আমাদের পক্ষে রায় পেয়েছি। এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আগে বিদ্যালয় জমিটি ভোগদখলে রাখলেও মামলার রায়ের পর এখন আমরা দখলে আছি এবং সেখানে চাষাবাদ করছি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জানাচ্ছে, ১৯৫৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪০ একর ৬৪ শতাংশ জমি কেনা হয়। ২০১৮ সালে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের পর সরকারি বিধি অনুযায়ী এসব জমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের নামে হস্তান্তর করা হয়।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেছেন, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর জনাব কাফি একটি জমি ক্রয় করেছেন। সেখানে স্কুলের দাবি করা জায়গায় রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। একই জমির মালিকানা স্কুল এবং স্থানীয় একটি পরিবার দাবি করছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা চলমান। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে স্কুলের আপিল করা আছে। এখনো এসব চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এই বিরোধ নিয়ে পরিস্থিতি অবনতি যাতে না ঘটে, সেদিকে প্রশাসন নজর রাখছে।’