Image description

অব্যাহত ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বৈরী আবহাওয়ায় সৃষ্ট বন্যা পরিস্থতিতে সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঝুঁকির আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ায় পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আগামী ১৫ই জুলাই পর্যন্ত জেলায় সব ধরনের পর্যটন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলা সদরের আর্মি পাড়া, মেম্বার পাড়া, ইসলাম পুর, বালাঘাটা, কালাঘাটা, ক্যাওচিং পাড়া, মুসলিম পাড়া, আম বাগান, শেরে বাংলা নগর, কালাঘাটা জেলে পাড়ায় পানি বেড়ে ৮ ফুট হয়ে গেছে। শুক্রবারও এসব এলাকায় হাঁটুসমান পানি ছিল।

এদিন সকালে বান্দরবান শহর সংলগ্ন ওয়াপদা ব্রীজ ২ ফুট পানিতে ডুবে যাওয়ায় রুমা ও থানচির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা বান্দরবান-কেরানীর হাট সড়কের। লাগাতার বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সড়কটি ডুবে যাওয়ায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সঙ্গে বান্দরবানের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

বান্দরবান বাস স্ট্যান্ড থেকে রেইচা লম্বা রাস্তা পয়েন্ট পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে পাহাড় ধস, বড় গাছ এবং ৩৩ কেভি লাইনের খুঁটি উপড়ে পড়ে মাঝে মাঝেই সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

সকাল ১১টার দিকে কসাই পাড়া অংশে সড়কের পাশের পাহাড় থেকে একটি বিশাল গাছ পড়ে ৩ ঘন্টা যোগাযোগ অচল করে দেয়।

এরইমধ্যে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এ ছাড়া বালাঘাটা এমডিএস এলাকা ৪ ফুট পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়ায় বান্দরবানের সঙ্গে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার সড়ক যোগাযোগ আবারও অচল হয়ে পড়েছে।

সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে অনেক এলাকা। টানা বর্ষণের কারণে বান্দরবান-চট্টগ্রাম, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি এবং বান্দরবান-কক্সবাজার সড়কও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়াও অভ্যন্তরীণ সড়কে যান চলাচল এবং নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, শনিবার বেলা ১২টায় মাতামুহুরী নদীতে বিপদ সীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান শহর পয়েন্টে বিপদ সীমার ২ মিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম জানান, লাগাতার জলাবদ্ধতায় সবজি ক্ষেতে তারা ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দুধপুকুরিয়া এলাকায় সেতু ভেঙ্গে গেছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দুধপুকুরিয়া এলাকায় সেতু ভেঙ্গে যাওয়ায় রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই জেলার মানুষ।

শনিবার সকালে সেতুটি ধসে পড়ে। এতে জরুরি যোগাযোগের জন্য দ্রুত বিকল্প রাস্তা ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এর আগে শুক্রবার রাতে বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌসের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈরী আবহাওয়ার জেরে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র, ঝর্না, পাহাড়ি ট্রেইল, নদীপথ, দুর্গম এলাকা ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পর্যটক, ট্যুর অপারেটরসহ সর্বসাধারণের ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনসহ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, গত চারদিনের টানা বর্ষণে বান্দরবানের ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুই হাজার ১০০ জন দূর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। দুর্গতদের জেলা প্রশাসন, বান্দরবান পৌরসভা, সেনাবাহিনী এবং বিজিবির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ সহায়তাসহ শুকনো ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।