চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে একই ইউনিয়নের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরে বাহারছড়া ইউনিয়নের রত্নপুর ও ইলশা গ্রামে আলাদা দুটি ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো—ইলশা গ্রামের মফজল আহমেদের নতুন বাড়ির ওমানপ্রবাসী কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. আশিক (১১) এবং রত্নপুর গ্রামের উনদুনী বর বাড়ির মো. আনোয়ারের দ্বিতীয় ছেলে মো. মিরাজ (৫)।
স্থানীয় বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজিম জানালেন, আশিক নিরাপদ আশ্রয় থেকে বাড়িতে ফিরছিল। পথে পানির স্রোতে ভেসে যায় সে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিরাজের প্রতিবেশী মো. দিদার জানালেন, মিরাজ তার ভাইপোর ছেলে। অন্য শিশুদের সঙ্গে পানি দেখতে গিয়েছিল। পথে স্রোতে পড়ে ভেসে যায় মিরাজ। পরে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক মিরাজকে মৃত ঘোষণা করেন।
আগে থেকেই ভয়াবহ পরিস্থিতি
বাঁশখালী উপজে ইতিমধ্যে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবারের তথ্য অনুযায়ী, বাঁশখালী উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের ২১২টি গ্রামের অধিকাংশই তখন থেকে পানির নিচে। বাহারছড়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর, আবার কোথাও গলাসমান পানি জমে ছিল।
বাহারছড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য কামরুল আলম চৌধুরী জানিয়েছিলেন, এই ইউনিয়নের অধিকাংশ বাড়িঘর পানির নিচে চলে গেছে। পাকা দালান ছাড়া কাঁচা, টিনসেড ও মাটির ঘরগুলো পুরোপুরি ভাসছিল পানিতে আর পানি কমার বদলে বাড়ছিল বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হঠাৎ পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় প্রস্তুতির সুযোগ পাননি কেউ। নলকূপ ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছিল সুপেয় পানির সংকট, বিদ্যুৎ না থাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল যোগাযোগ।
ছনুয়া গ্রামের আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক মোহাম্মদ ইলিয়াসের ভাষ্য, পশ্চিম বাঁশখালীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম জলকদর খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়া, স্লুইস গেট অকার্যকর হয়ে পড়া এবং মাছের ঘেরের কারণে দেওয়া বাঁধের কারণে পানি নামতে না পারাই এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার মূল কারণ।
এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরের বেড়িবাঁধ ভেঙে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে উপকূলীয় এলাকায়।