কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গ্রামীণ সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার জিংলাতলী ইউনিয়নের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে ধীতপুর হাজীবাড়ি মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২শ মিটার সড়কের সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির আওতাধীন এ সড়কের সংস্কারকাজে প্রয়োজনীয় কারিগরি মান ও নির্মাণবিধি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। এদিকে সড়কটি সংস্কার কাজ পরিদর্শন করে অনিয়মের প্রতিবাদে করেছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আসিফ কবির। নিজ অর্থায়নে তিনি ১০০ মিটার সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, ধীতপুর সড়কের বিভিন্ন অংশে স্থানীয় বাসিন্দারা কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। এলাকার লোকজন নতুন কার্পেটিংয়ের অংশ হাত দিয়েই টেনে তুলে ফেলতে দেখা যায়।
তাদের অভিযোগ, সড়কটি পরিষ্কার না করেই কার্পেটিং করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি স্থানে বিটুমিনের ব্যবহার, কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ও ফিনিশিং নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ঠিকাদার মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, সড়কটিতে সঠিক মালামাল ব্যবহৃত হচ্ছে না। সংস্কারের ক্ষেত্রে যে কারিগরি মান অনুসরণ করা প্রয়োজন, বাস্তবে তার ঘাটতি রয়েছে। তার দাবি, অনেক স্থানে রাস্তা ভালোভাবে পরিষ্কার না করেই কার্পেটিং করা হয়েছে। পর্যাপ্ত বিটুমিন ব্যবহার করা হয়নি। কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব সর্বত্র সমান নয় এবং কোথাও কোথাও নির্ধারিত ১০ ফুট প্রস্থও বজায় রাখা হয়নি।
তিনি বলেন, একটি সরকারি সড়ক টেকসই করতে হলে বেজ প্রস্তুত, পর্যাপ্ত বিটুমিন ব্যবহার, সঠিক রোলারিং, সমান পুরুত্ব এবং মানসম্মত ফিনিশিং নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি রাস্তার দুই পাশে প্রয়োজনীয় শোল্ডার থাকতে হয়; কিন্তু এখানে কয়েকটি স্থানে এসবের ঘাটতি চোখে পড়েছে। আমার পেশাগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এভাবে কাজ করা হলে সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে নিয়ম মেনে কাজ সম্পন্ন করা উচিত।
নিরাপদ সড়ক চাই, দাউদকান্দি শাখার সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, সরেজমিন এসে কাজের যে অবস্থা দেখেছি, তাতে উদ্বিগ্ন হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত একটি সড়ক প্রকল্পে গুণগতমান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে সেই প্রত্যাশা করছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নাজির মিয়া বলেন, কাজের শুরু থেকেই তিনি সংশ্লিষ্টদের মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার ও নিয়ম মেনে কাজ করার অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। তার অভিযোগ, রাস্তার কয়েকটি অংশে যথাযথ প্রস্তুতিমূলক কাজ ও রোলারিংয়ের ঘাটতি রয়েছে, যা ভবিষ্যতে সড়কের স্থায়িত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে আসছেন। বহু প্রতীক্ষার পর সরকারি উদ্যোগে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী সন্তুষ্ট হলেও তারা চান, কাজটি যেন নির্ধারিত নকশা ও কারিগরি মান অনুসরণ করে টেকসইভাবে সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে প্রকল্পের ঠিকাদার হুমায়ুন কবির ও নুরুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বরত ম্যানেজারের অবহেলায় কয়েকটি স্থানে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তারা জানান, যেখানে যেখানে ত্রুটি রয়েছে, সেগুলো পুনরায় সংস্কার করে নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আসিফ কবির। পরিদর্শন শেষে তিনি সরকারি সড়কের সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সরকারি অর্থে নির্মাণ বা সংস্কার হওয়া একটি সড়কে কোনো ধরনের অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের টাকায় বাস্তবায়িত প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও জানান, সরকারি প্রকল্পের বাইরে একই সরকারি সড়কের অবশিষ্ট প্রায় ১০০ মিটার অংশ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও নিজ অর্থায়নে নির্মাণ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষ্য, এমএম এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে ওই অংশের নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। মানসম্মতভাবে সরকারি সড়কের কাজ করা সম্ভব, সেটি বাস্তবে দেখাতেই আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, সড়ক সংস্কারে কোথাও অনিয়ম বা ত্রুটির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।