প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষকদের বেতন-জীবনমান নিয়ে জাতীয় সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহর করা প্রশ্নের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে শিক্ষকদের সুখবর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও মর্যাদা বাড়ানোর বিষয়ে সরকার পর্যায়ক্রমে কাজ করবে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের সম্মানী বৃদ্ধি করা জরুরি, যাতে তারা অন্য কোনো কাজের চিন্তা না করে শিক্ষার্থীদের পেছনে পূর্ণ সময় দিতে পারেন সে ব্যাপারে কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘শুধু প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না, প্রশিক্ষণের সঙ্গে শিক্ষকদের সম্মানীও বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলে তারা ভালো কিছু ডেলিভার করতে পারবেন।’
এর আগে সাংসদ হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা হচ্ছে ফিডার ইনস্টিটিউশন। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মান উন্নয়ন করা না গেলে উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল পাওয়া কঠিন। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার টাকা বেসিক বেতন দিয়ে চাকরি শুরু করেন। অন্যদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকরা ১০ম গ্রেডে ১৬ হাজার টাকা বেসিক বেতন পান। বর্তমান বাস্তবতায় এই বেতনে শিক্ষকতা পেশায় আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন।
তিনি বলেন, অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে সংসার চালাতে ক্লাসের বাইরে অন্য চাকরি বা কৃষিকাজে যুক্ত হতে হয়। একই ধরনের পরিস্থিতি মাধ্যমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। ফলে শিক্ষকদের মর্যাদা ও বেতন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যাতে তারা শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে মনোযোগ দিতে পারেন।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে তা আরও বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অতীতে শুধু অবকাঠামো নির্মাণের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কিন্তু মানবসম্পদ উন্নয়নে পর্যাপ্ত কাজ হয়নি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে তাদের সম্মানী বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষকরা যেন অন্য কোনো কাজে যুক্ত না হয়ে তাদের সময় ও মেধা শিক্ষার্থীদের পেছনে ব্যয় করতে পারেন। এজন্য তাদের সম্মানী বাড়ানো প্রয়োজন এবং পর্যায়ক্রমে আমরা এই কাজটি করব।’