Image description

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা খাতের মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করা হবে। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। 

বুধবার (৮ জুলাই) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনে নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলুর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু জানতে চান, দেশের নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের গুণগত প্রশিক্ষণ, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে বাজেটে শিক্ষা খাতে বিশেষ কোনও অগ্রাধিকারমূলক বরাদ্দ রাখা হয়েছে কি না।

 

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে প্রথমবারের মতো জিডিপির দুই শতাংশে উন্নীত করেছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে (এসইডিপি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মোট ৪১৯৯ কোটি টাকা (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৩৫৯৯ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৬০০ কোটি টাকা) বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এসইডিপির আওতায় মোট ১০টি স্কিম চলমান রয়েছে। এসব স্কিমের মধ্যে একটি ন্যাশনাল কারিকুলাম ডিসেমিনেশন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য ৮১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে মোট ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২১ জন শিক্ষক, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে বেসিক ট্রেনিং, বিষয়ভিত্তিক প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের লিডারশিপ ট্রেনিং, ভোকেশনাল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ব্লেন্ডেড লার্নিং, আইসিটি, লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও বুলিং প্রতিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে প্রশিক্ষণ।

 

সংসদ নেতা তারেক রহমান জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটে ৩০৪০ দশমিক ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে ২১৯৬ দশমিক ৪ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে ৮৪৪ দশমিক ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

ঝরে পড়ার হার কমিয়ে আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-৫ (পিইডিপি-৫)-সহ পাঁচটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে।

এ ছাড়া, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে চলতি অর্থবছর থেকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ও উপবৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, স্কুল ড্রেস বিতরণ এবং আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে ক্রীড়া উপকরণ সরবরাহ করা হবে। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার কমে আসবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি বাবদ ৫ হাজার ৫৩৪ কোটি ৭৫ লাখ  টাকা চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।