Image description

বৃষ্টি নামলে পায়ে হেঁটে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যাওয়ার উপায় থাকে না রাজধানীতে। স্বল্প দূরত্বের গন্তব্যে যেতে রিকশা হয়ে উঠে ‘একমাত্র’ বাহন। এটাই যেন ‘বড় সুযোগ’ রিকশাচালকদের। মুহূর্তেই ভাড়া বেড়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ।

আজ মঙ্গলবার প্রায় সারাদিন বৃষ্টি রাজধানীতে। শাহবাগ মোড়ে দেখা গেল একই চিত্র। গন্তব্যে পৌঁছাতে রিকশার জন্য অপেক্ষা করছেন যাত্রীরা। এ সুযোগে অস্বাভাবিক ভাড়া চাচ্ছেন কিছু চালক।

শাহবাগ থেকে হাতিরপুল বাজারগামী বেসরকারি চাকরিজীবী আলমগীর হোসেন বললেন, ‘এই পথে প্রতিদিন ৪০-৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে যাই, আজ বৃষ্টি হয়েছে তাই ৮০ টাকা।’

মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী নুসরাত জানান, বৃষ্টির মধ্যে বাস পাওয়া কঠিন। রিকশায় উঠতে হয়। রিকশাচালকরা যে ভাড়া চান বাধ্য হয়ে তাই দিতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় দামাদামির সুযোগ থাকে না যাত্রীদের।

রিকশাচালক হাসানের ভাষ্য, ‘বৃষ্টির দিনে রাস্তায় চলাচলে ঝুঁকি থাকে। জলাবদ্ধতা, যানজট এবং পিচ্ছিল সড়কে একটি ট্রিপ শেষ করতে অন্য সময়ের তুলনায় সময় বেশি লাগে। ট্রিপ কমে যাওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছি।’

আরেক রিকশাচালক মনিরুল বলছিলেন, অনেক চালক বৃষ্টিতে ভিজতে চায় না, রিকশাতেই বসে থাকে। অনেকে বৃষ্টির মধ্যে বেরও হয় না। আমরা যারা বের হই অনেকসময় হাটু পানিতে রিকশা টেনে নিয়ে যেতে হয়। কষ্ট বেশি হয় বিধায় আমরা মাঝে মধ্যে ভাড়া একটু বেশি নেই। পানিতে ভিজে অসুখ হলে তো কেউ আমাদের টাকা দেয় না।

ব্যাংক কর্মচারী আবিদ হাসানের দাবি, অন্তত প্রধান সড়কে রিকশা ভাড়ার একটি নির্দেশিকা বা ন্যূনতম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বৃষ্টির দিনে পর্যাপ্ত গণপরিবহন নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে না।

অন্যদিকে, বৃষ্টির দিনেও চিরচেনা যানজটের পরিবর্তন নেই রাজধানীতে। বৃষ্টি হোক বা রোদ সড়কে যানবাহনের দীর্ঘ সারি, ধীরগতির চলাচল এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ। জলাবদ্ধতা এবং পরিবহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সৃষ্টি করছে দীর্ঘ যানজট। ফলে সময় বাঁচাতে বাস থেকে নেমে বেশি ভাড়ায় রিকশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন যাত্রীরা।