Image description

গত ১৭ বছরে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্ত হওয়া ১৫০ জন কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই তালিকায় রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমী। তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ বকেয়া বেতন-ভাতার পাশাপাশি এককালীন এক কোটি টাকা ‘বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা’ এবং বয়স ও যোগ্যতা সাপেক্ষে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুযোগও দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ জুলাই) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে চাকরিতে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিহিংসার শিকার সামরিক কর্মকর্তাদের আবেদন, তিন বাহিনীর সদরদপ্তরের মতামত এবং চলতি বছরের ৩ মে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২১ জন এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ১৪ জনসহ মোট ১৫০ জন অবসরপ্রাপ্ত, অপসারণকৃত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও বরখাস্তকৃত কর্মকর্তাকে স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি, অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসর সংশোধন এবং তদানুযায়ী বিধি মোতাবেক বকেয়া বেতন-ভাতা, আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সুবিধা দেওয়া হবে। ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, অধিকাংশ কর্মকর্তার বাধ্যতামূলক বা অকালীন অবসর বাতিল করে বয়সসীমা পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত চাকরি বহাল ধরে স্বাভাবিক অবসর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক কর্মকর্তাকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল, মেজর জেনারেল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও কর্নেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা সংশ্লিষ্ট পদমর্যাদায় চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী বকেয়া বেতন-ভাতা এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন। 

এছাড়া কয়েকজন কর্মকর্তার জন্য বিশেষ আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারও জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা, কারও জন্য ৫০ লাখ টাকা এবং কারও জন্য এক কোটি টাকা পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী কারও জন্য সরকারি বা বাহিনীর ব্যবস্থাপনায় প্লট বা ফ্ল্যাট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া বয়স ও যোগ্যতা সাপেক্ষে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুযোগও থাকবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমীকে ২০০৯ সালের ২৪ জুন অকালীন (বাধ্যতামূলক) অবসরে পাঠানো হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করে মেজর জেনারেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করে তাকে অবসরপূর্ব লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিসহ বয়সসীমা শেষে স্বাভাবিক অবসর দেওয়া হয়েছে।

গেজেটের বিবরণ অনুযায়ী, তিনি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও মেজর জেনারেল—উভয় পদে নির্ধারিত সময়ের বকেয়া বেতন-ভাতা, বিধি অনুযায়ী আর্থিক ও আনুষঙ্গিক সুবিধা পাবেন। এর পাশাপাশি বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা হিসেবে তাকে এককালীন এক কোটি টাকা দেওয়া হবে। এছাড়া বয়স ও যোগ্যতা সাপেক্ষে তাকে যেকোনো সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় পদায়নেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।

সুবিধাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সামরিক সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিমও রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সৈয়দ ফাতেমী আহমেদ রুমীকে ২০০৯ সালের ১২ মার্চ বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার অবসর সংশোধন করে ২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট স্বাভাবিক অবসর দেখানো হয়েছে। ফলে তিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মেজর জেনারেল পদমর্যাদায় বকেয়া বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন।

অন্যদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সামরিক সচিব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আমিনুল করিমকে ২০০৯ সালের ১২ মার্চ বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার অবসর সংশোধন করে ২০১২ সালের ৩০ জুন স্বাভাবিক অবসর দেখানো হয়েছে। এর ফলে তিনি ২০০৯ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদায় বকেয়া বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন।